বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ডিবির পৃথক অভিযানে ৮ কেজি হেরোইন, ১ লক্ষ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা, ৫৫৯ বোতল ফেনসিডিল ও ২৫৫ কেজি গাঁজাসহ ছয়জন গ্রেফতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ উপকূলবাসীকে রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে ‎—— পানিসম্পদ মন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ: স্বায়ত্তশাসন ও পেশাদারিত্বের সংকট তিন মাসেই ভেঙে পড়ল ৮৬ লাখ টাকার রাস্তা, তিতাসে ক্ষোভ শ্রম আইন বাস্তবায়নের উপর বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেকাংশে নির্ভরশীল– মার্কিন রাষ্ট্রদূত সিটিটিসি র অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ এক নারী মাদক কারবারিসহ আটক দুই ঢাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা’ পথচারী ও চালকদের সাবধানে চলাচল

তিন মাসেই ভেঙে পড়ল ৮৬ লাখ টাকার রাস্তা, তিতাসে ক্ষোভ

মো: রমিজ উদ্দিন
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নাগেরচর মধ্যপাড়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ৮০২ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, ধস ও দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, কাজটির প্যাকেজ নম্বর এলজিইডি ২৪-২৫ আর ডাব্লু প্রকল্পের নাম ছিল গাজীপুর-বাতাকান্দি, বলরামপুর, নাগেরচর, মাছিমপুর জিসি রোডের ৬৫৯০ মিটার থেকে ৭৩৯২ মিটার পর্যন্ত অংশ পুনর্বাসন কাজ। মোট ৮০২ মিটার দৈর্ঘ্যের এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮৬ লাখ ১৫ হাজার ৩০৭ টাকা।

সরকারি নথি অনুযায়ী, দরপত্রের মাধ্যমে এস এম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে বাস্তবে কাজের মান নিয়ে এখন উঠেছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তা পুরোপুরি চালু হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় একদিনের বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়। কোথাও রাস্তা দেবে গেছে, কোথাও পাশের মাটি সরে ধসে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, যেখানে ৬ ইঞ্চি ম্যাকাডম দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে অনেক স্থানে ৪.৫ থেকে ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের খোয়া, বালু ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। পাশাপাশি সড়কের সাইড স্লোপ ও মাটি কম্প্যাকশন সঠিকভাবে না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি সরে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নতুন রাস্তা কয়েক বছর টেকসই থাকার কথা। অথচ তিন মাসেই যদি ভেঙে যায়, তাহলে এত টাকা গেল কোথায়?”
তাদের অভিযোগ, কাজ শেষে যথাযথ তদারকি ও মনিটরিং না থাকায় ঠিকাদার বিল উত্তোলন করলেও জনগণ পায়নি মানসম্মত অবকাঠামো।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কাজের পরিমাপ, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী ও বিল যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় মানসম্মতভাবে রাস্তা নির্মাণের আহ্বান জানান তারা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ করে জনগণের অর্থ অপচয় করা হলে তা শুধু দুর্নীতি নয়, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। নাগেরচর মধ্যপাড়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত এই সড়কের বর্তমান অবস্থা এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102