এস এম সবুজ :
২৭ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জেলার সাংবাদিকরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা আশরাফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি এবং শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লার অপসারণ দাবি করেন।
প্রথমে পোস্ট অফিস মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একই স্থানে ফিরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দৈনিক এদিন প্রতিনিধি সুজন বিপ্লবের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবির, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির, শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক, ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আল এনাম এবং আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন।
বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে ওসি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যে ব্যক্তি নিজ পরিবারের সদস্য হত্যার ঘটনায় শোকাহত, তাকেই একই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তারা আরও বলেন, মামলার এজাহারে সুস্পষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়াই একজন সংবাদকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে ওসির অপসারণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
এ সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
জানা যায়, গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে পুলিশ আশরাফুল ইসলামকে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, পরদিন রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল সকালে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে মোহন শেখ (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। নিহত মোহন শেখ আশরাফুল ইসলামের আপন চাচাতো দাদা ছিলেন।
আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, “গ্রামে পুলিশের উপস্থিতিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রকাশের জেরে আমার স্বামীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি তার দ্রুত মুক্তি চাই।”