শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার জিরবো এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ‘ফিটিং’ চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একটি নারীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা ও গার্মেন্টস কর্মী ইসামুল হক পরিচয়ের সূত্রে মোছাঃ আরিফা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তাকে কৌশলে আশুলিয়ার জিরবো এলাকার একটি বাসায় ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে যাওয়ার পর প্রথমে স্বাভাবিক আচরণ করা হলেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় মোবাইল আর্থিক সেবা ‘রকেট’-এর মাধ্যমে তার কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এতেই শেষ নয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের কাছে ফোন করিয়ে আরও টাকা আনা হয়। একাধিক দফায় টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মামলা করলে প্রাণনাশের ভয়ও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম এসেছে মোছাঃ আরিফা বেগম, তার স্বামী মোঃ আরিফ আহমেদ এবং তাদের সহযোগী ইমান আলী ও লিটন এর।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেলের নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুবেল হাওলাদার বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের প্রতারণা চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে এবং আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারে। তবে ভয় ও সামাজিক কারণে অনেকে প্রকাশ্যে আসছেন না।
সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি। অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।