শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক তরুণীকে (১৮) ঘরে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে ৩ যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সাথে জড়িত জাকির হোসেন নামের আরও এক অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, সিফাত (১৮): পিতা মো. জয়নাল, জামগড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে লীলা চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া। মো. মমিন শেখ (২০): পিতা মো. মোবারক শেখ, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার চাপখন্ড এলাকায়। (বর্তমানে জামগড়ায় সোহেলের বাসার ভাড়াটিয়া)। মো. সুমন শেখ (১৮): পিতা মো. দেলোয়ার শেখ, গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার সলংগা থানার রাউলী এলাকায় এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর যুবক মো. জাকির হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত মমিন শেখ তাকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় দেখা করতে বলেন। পরে তারা কথা বলতে বলতে জামগড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে সিফাতের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে যান।
সেখানে তরুণীকে আটকে রেখে সিফাত, মমিন ও সুমন পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পলাতক অভিযুক্ত জাকির হোসেন ভুক্তভোগী তরুণীর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেয়।
ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) রাশেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত অভিযান চালান। তারা ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকেই সিফাত, মমিন ও সুমনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। পরে তাদের আশুলিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশ হেফাজতে নিরাপদ রয়েছেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। এ ঘটনায় পলাতক অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার মূল সূত্রপাত মোবাইল নিয়ে নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়িতদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।