শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি বাউন্ডারি করা বাড়ি থেকে বিশাল আকৃতির ২ টা গাঁজা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করতেই তড়িঘড়ি করে প্রমাণ লোপাটের জন্য গাছগুলো পুড়িয়ে ফেলেছেন বাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার। এই ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান পাম্পের পাশে তাপস নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন একটি বাউন্ডারি ঘেরা বাড়ি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটির ভেতরে রহস্যজনক আনাগোনা লক্ষ্য করছিলেন প্রতিবেশীরা। সম্প্রতি সেখানে বিশালাকৃতির গাঁজা গাছের সন্ধান মেলে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। সেখানে দায়িত্বরত ম্যানেজারের কাছে গাছের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে আমতা আমতা করে বলেন এটি কী গাছ আমি জানি না।
ম্যানেজারের এমন জবাবে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর জন্য ফোন বের করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই ম্যানেজার। পুলিশ আসার আগেই অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে তিনি জোরপূর্বক গাঁজা গাছগুলো উপড়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ সময় দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যম কর্মীরা তাকে বাধা দিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অত্যন্ত অশালীন ও খারাপ আচরণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দিনের বেলা বাড়িটি শান্ত দেখালেও রাতে চিত্র বদলে যায় বাউন্ডারি ঘেরা এই বাড়ির ভেতরে রাতের আঁধারে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসে। প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের মহোৎসব চলছে।
এই ঘটনার মূলহোতা এবং বাড়ির মালিক তাপসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাউন্ডারি করা সুরক্ষিত বাড়ির ভেতরে কীভাবে এমন নিষিদ্ধ মাদক গাছের চাষ হলো, তা নিয়ে বাড়ির মালিকের ভূমিকা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। মাদক চাষ এবং সাংবাদিকদের হেনস্তা উভয় অপরাধের বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।