স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী :
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে বাসাবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ পরিদর্শন করে এ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নেক্কারজনক ঘটনা বলে অবহিত করেছে। ২১শে অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় জলঢাকা উপজেলার সিমান্ত এলাকা গংগাচওড়ার পশ্চিম নোহালী কচুয়া সরদার পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোকলেছার রহমান অভিযোগ করে গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিপক্ষ মজনু মিয়া, শহিদুল ইসলাম গং পূর্ব শত্রুতার জেরে আক্রোশ বসতঃ লাঠি, ছোড়া, রড, শাবল নিয়ে আকস্মিক আমাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে আমাকে তাড়া করে। এ সময় আমি বাড়িতে আসলে প্রতিপক্ষ গং আমার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে৷ পরে স্থানীয়রাআএসে আগুন নেভায়৷
জানা যায়, মজনু মিয়া গং এর সাথে তাদের চাচাত ভাই মফিজুল ও মোকলেছার রহমানের জমিমজা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। উক্ত নালিশী বিত্তে আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে ৯নং নোহালী কচুয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, জলঢাকার কৈমারী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ মান্দু ভাইয়ের সমন্বয়ে স্থানীয় ভাবে আমরা বিষয়টি মিমাংসার জন্য অনেকটা অগ্রসর হয়েছিলাম। আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয় মহৎ ব্যক্তিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আজ মজনু ও শহিদুল গং যেটি করলেন সেটি কোন সামাজিকতায় পরে না। দিন দুপুরে একটি বাসাবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে আগুন লাগালেন এটি চরম ন্যাক্কার জনক কাজ হয়েছে। নোহালী কচুয়ার ইসলামি আন্দোলনের সেক্রেটারি রুহুল আমিন বলেন, মফিজুল গং দুর্বল হওয়ায় প্রতিপক্ষরা দফায় দফায় হামলা করে জমি, ফসল দখল শেষে এখন বাসাবাড়িতে হামলা করছে। বাড়িতে আগুন লাগার বিষয়টি দুঃখজনক।
জানা যায়, ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯৬৪ সালে ৫২০৫ নং কবলা দলিল মুলে নালিশী ২৯৫ দাগে ৭৫ শতক এবং নালিশী ২৯৮ দাগে ৩১ শতক উভয় দাগে মোট ১ একর ৬ শতক জমি ক্রয় করেন মফিজুল ইসলামের পিতা আব্দুস সোবহান। পৈতৃক সুত্রে জমি প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আব্দুস সোবহানের দুই ছেলে মফিজুল ও মোকলেছার রহমান বাসাবাড়ি নির্মানসহ জমি ভোগদখল করে আসলেও প্রতিপক্ষ মজনু মিয়া গং উক্ত নালিশী বিত্ত নিজেদের দাবী করে আসছেন এবং নালিশীবিত্তের এ জমি নিয়ে মামলা চলমান আছে উভয়পক্ষের মধ্যে। মফিজুল ইসলাম জানান, এরই মধ্যে প্রতিপক্ষরা আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে ১৫ই অক্টোবর মঙ্গলবার ভোর হতে লাঠি, ছোড়া, শাবল, হাতুরী ও দেশিও অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার রোপনকৃত ফলজ মালটার ৯০টি গাছ, কলা গাছ ১শত ৫০টি, পেয়ারা গাছ ২৫টি, ইউক্যালেক্টর গাছ ২৬টি বাঁশ ৫ শতাধিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ শতাধিকের উপরে গাছ কর্তন করে জমি জবরদখল করে। এমতাবস্থায় আজ তারা পুনরায় আমাদের উপর হামলা করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলেন। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি আইনের মাধ্যমেই আমি সুবিচার চাই।
এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ মজনু মিয়া গং এর শাহিন ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মফিজুল গং আকস্মিক ভাবে লাঠি, ছোড়া, রড, বটি ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমাদের পক্ষে আহত হই আমি শাহিন মিয়া (৪২) তাইজুল ইসলাম (৪০) জিয়া (২৪) ও জয়া আক্তার (১৩)। আমরা বর্তমানে রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহণ করছি। প্রতিপক্ষ মফিজুল গং আইনের বিচারিক কার্যক্রমকে ভন্ডুল করতে নিজেরাই তাদের বাসাবাড়িতে আগুন লাগিয়ে আমাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। এ বিষয়ে গংগাচড়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল এমরান গণমাধ্যমকে বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে মামলা চলমান রয়েছে। তবে আজকের বিষয়ে থানায় অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।