শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের জামগড়া এলাকায় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন জোনাল অফিসের চরম অব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লুকোচুরিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিন নেই, রাত নেই, অসময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং আর টেকনিক্যাল ত্রুটির দোহাই দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে।
শিল্প উৎপাদন ও জনজীবনে স্থবিরতা দেশের অন্যতম প্রধান পোশাক শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত জামগড়া ও এর আশপাশে কয়েক হাজার কলকারখানা রয়েছে। বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় বিঘ্নিত হচ্ছে কারখানার উৎপাদন। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই দিনে-রাতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের নাভিশ্বাস ওঠার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগ, অঘোষিত লোডশেডিং কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ না থাকলেও মাস শেষে বিল আসছে আকাশচুম্বী। মিটারের রিডিংয়ের সাথে বিলের কাগজের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
সেবার নামে হয়রানি, যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ জানাতে অফিসে ফোন দিলেও কর্তৃপক্ষ ফোন রিসিভ করে না অথবা দায়সারা উত্তর দেয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। জামগড়া এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ গেলে আসার নাম থাকে না। বিল দেওয়ার সময় একদিন দেরি হলে জরিমানা দিতে হয়, অথচ তারা যে আমাদের চব্বিশ ঘণ্টা হয়রানি করছে তার বিচার কে করবে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে জামগড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা, সিস্টেম লোড এবং জরুরি সংস্কার কাজ কে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে কেন প্রতিদিন একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
বিক্ষোভের শঙ্কা বিদ্যুতের এই ‘ভেলকিবাজি’ দ্রুত বন্ধ না হলে এবং সেবার মান উন্নত না করলে যেকোনো সময় এলাকাবাসী ও শ্রমিকরা রাজপথে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।