রাশেদুজ্জামান সুমন, জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকায় এক ইমামকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। প্রকৃত ঘটনাটি আসলে কি? তা নিয়ে চলছে ব্যাপক গুন্জন। এজহার সূত্র আর বাস্তবতার চিত্র দুটিই ভিন্ন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উৎঘটনার দাবি জানান তারা ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মীরগন্জ ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ডের নগর মীরগন্জ এলাকায়।
এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮শে সেপ্টেম্বর দুপুর তিনটায় ওই এলাকার আলমগীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে মেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী আলমিরা আক্তার (১১) কে ফাকা বাড়িতে পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় প্রতিবেশী মাদ্রাসা পরিচালক ও ইমাম আবু বক্কর সিদ্দিক। এবং মেয়েটিকে নীলফামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে দায়সারা তদন্ত করে চারদিন পর মামলাটি রেকর্ড করা হয়। পুলিশ জানায়, ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কারণে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আলমগীর হোসেনের স্ত্রী সেরিনা বেগম একজন বদমেজাজি ও মামলাবাজ মহিলা। তিনি ওই এলাকার প্রায় মানুষের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকেন। ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করেন।আবু বক্করের স্ত্রী রানীর সঙ্গে তার মুরগি ও সামান্য বিষয় নিয়ে ঝামেলা লেগেই থাকত। এর কারণে তাদের মহিলা মাদ্রাসা থেকে মেয়ে আলমিরাকে প্রায় ছয়মাস আগে বের করে নিয়ে আসে। এখন সে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ে।অথচ এজাহারে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেশী মকছু বেগম জানান ” ঘটনার দিন সকালবেলায় ছাগল নিয়ে ঝগড়া হয় তাদের দুপক্ষের মধ্যে,পরে একপর্যায়ে আবু বক্করের বাড়ির সামনে এসে ওই মহিলা থাপ্পর দিলে সেও থাপ্পর দেয়। এটুকুই ঘটনা আর ধর্ষণের চেষ্টা কখন করল। ঝগড়ার পরে তারা মেয়েকে নিয়ে নীলফামারী হাসপাতালে নিয়ে যান। যদি ঘটনা সত্যি হয় তাহলে জলঢাকা ছেড়ে নীলফামারীতে ভর্তি করালো কেন? “। একই এলাকার কহিনুর বেগম বলেন” ঝগড়ার সময় সেরিনা আবু বক্করকে বলেন আমি তোকে মেয়ে দিয়ে ফাঁসাবো, তোর নামে মামলা করব, জেল খাটাবো, এই বলে আলমীরার জামা প্যান্ট ছিড়ে দিয়ে আমাদের সামনে ভ্যানে করে নীলফামারী চলে যায়।
এসময় আলমীরা তার মায়ের এরকম আচরণের জন্য কান্না করছিল “। ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান ভোল্টাই জানান ” ঘটনার দিন আমি এখানে সারাদিন ছিলাম এখানে কোনো ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি। শুধু সকালবেলায় ছাগল নিয়ে একটু ঝগড়া ও সামান্য হাতাহাতির হয়েছে। আমি সেটাও সমাধান করে দিয়েছি। সঠিকভাবে তদন্ত করলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে”। আলমীরার মা সেরিনা বেগম স্বাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে না দিলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন” আমি হাউস (শখের বসে) করি মামলা দিছি। যেখানে কথা বলার দরকার সেখানে বলব তোমাক কিছুই বলব না”। এই কথা বলে ঘরের মধ্যে চলে যান। এ বিষয়ে মামলা তদন্ত কারি কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন জানান ” আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না আপনারা ফারির ইনর্চাজ অথবা ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন “। থানা অফিসার ইনর্চাজ আরজু মোঃ সাজ্জাদ বলেন ” আমরা মূলত ধর্ষণের চেষ্টার মামলা হলে দ্রুত গ্রেফতার করি তবে এ মামলার চিত্রটি একদম আলাদা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে অনুযায়ী আরও গভীরতার সহিত সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করতে হবে”।
আবু বক্কর সিদ্দিক মীরগ্জ ইউনিয়নের সীপাহীর ডাঙ্গা জামে মসজিদের ইমাম,খাদিজাতুল কোবরা মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক ও মীরগন্জ এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষক। একটি ছোট্ট বাচ্চাকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে এরকম ন্যাক্কার জনক, মিথ্যে, বানোয়াট মামলা এলাকাবাসির মনে ক্ষোভের সঞ্চয় সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই মামলার সঠিকভাবে তদন্তের জন্য উপর মহলের দৃষ্টি আর্কষন করেন।