মাহমুদ আল হাছান:
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের কারণে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা নদী। হঠাৎ করে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষজন নতুন করে আতঙ্কে পড়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির স্তর রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে সকাল ৯টার দিকে পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ৪৪টি জলকপাট পুরোপুরি খুলে দিয়েছে। ফলে দ্রুত স্রোতের সঙ্গে তিস্তার পানি নেমে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলে।
এদিকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ তিস্তা পাড়ের অসংখ্য গ্রামবাসীর মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে নদীর পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান,
“উজানে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অতিরিক্ত চাপ কমাতে ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গ্রামীণ জনপদে পানি ঢুকে পড়লে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদীপাড়ে বসবাসরত নিম্নআয়ের মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। ইতোমধ্যেই কিছু এলাকায় ভাঙনও দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।