বিশেষ প্রতিনিধিঃ রংপুর চেম্বার অফ কমার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ (RCCI School & College)-এ ক্লাস পার্টিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়ার পরও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই খাবার খেয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি, পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া-জাতীয় উপসর্গে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি যেসব গার্ডিয়ানরাও একই খাবার গ্রহণ করেছিলেন, তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় বাচ্চাদের নিয়ে গার্ডিয়ানরা প্রায় দিশেহারা। কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকানিউ প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
এ অবস্থায় রবিবারের পরীক্ষা সামনে রেখে গার্ডিয়ানরা চরম উদ্বেগে আছেন। বাচ্চারা সুস্থ না হলে কীভাবে পরীক্ষা দেবে—এই প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট জবাব দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। গার্ডিয়ানরা আর্থিক ক্ষতি, চিকিৎসার ব্যয়, মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়ছে। কিন্তু তবুও স্কুল প্রশাসন ঘটনা জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা আরও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
RCCI স্কুলের প্রিন্সিপাল, গভর্নিং বডি, এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা। একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে এমন অবহেলা কীভাবে ঘটে? ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হলে এর দায় কি প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে? স্পষ্টভাবে বলা যায়—যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের দায় স্বীকার করতেই হবে।
গার্ডিয়ানদের অভিযোগ—যারা খাবার তৈরির দায়িত্বে ছিলেন, যারা অযোগ্য বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করেছেন, এবং যাদের অবহেলায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশুই যেন অযথা ভোগান্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে—এটাই আজকের মূল দাবি।
গার্ডিয়ানরা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তারা যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন এবং প্রশাসনিক দফতরে অভিযোগ দাখিল—সবই করবেন। কারণ অসুস্থ সন্তানের কষ্ট দেখে বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা-সহায়তা এবং পরীক্ষার বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত—এসব এখনই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সব শিশু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে—এই প্রার্থনা সবার। আল্লাহ তায়ালা তাদের সুস্থতা দান করুন। আমিন।