কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজঃ
ত্যাগ, ভালোবাসা, আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মহিমান্বিত আহ্বান নিয়ে মুসলিম উম্মাহর দ্বারে সমাগত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদ শুধু আনন্দের নয়, বরং আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য শিক্ষা। মহান আল্লাহর প্রতি নিঃস্বার্থ আনুগত্যের চিরন্তন দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতি বছর মুসলমানরা পালন করেন পবিত্র কুরবানির এই মহোৎসব।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন তিতাস উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
ছাত্র রাজনীতি থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে তিনি কর্মীদের আস্থা ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
জানা যায়, তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মৌটুপী সিকদার রোড এলাকার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাতৃকানন প্রি-ক্যাডেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ একজন সৎ, মেধাবী, মানবিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব। তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্তমানে তিনি তিতাস উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই তিনি ধানের শীষের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (দায়িত্বপ্রাপ্ত কুমিল্লা বিভাগ) এবং বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূইয়ার ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
একজন নম্র-ভদ্র, স্বচ্ছ ও অমায়িক চরিত্রের মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। এই মানবিক চিন্তাধারা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি আজ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি তিতাস উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি মৌটুপী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি গৌরীপুর গ্রীন ল্যাব হসপিটালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তাঁর রয়েছে সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি মৌটুপী নূরানিয়া হাফিজিয়া ও এতিমখানার সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান সহ-সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা, রাজনীতি ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত। নির্লোভ, নিরহংকারী ও মানবপ্রেমী এই মানুষটি সবসময় অসহায়, গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন—
“কুরবানি শুধুমাত্র পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আত্মত্যাগ, তাকওয়া ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহিমান্বিত ইবাদত। আল্লাহ তাআলা কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত দেখেন না, তিনি দেখেন বান্দার তাকওয়া ও আন্তরিকতা। কুরবানির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, গুনাহ মাফের আশা পায় এবং অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
কুরবানির অন্যতম শিক্ষা হলো—নিজের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করার মানসিকতা অর্জন করা। এই কুরবানি মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ হতে শেখায়। ধনী-গরিব সবাই যেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারে, সেই মহান শিক্ষা দেয় পবিত্র ঈদুল আজহা।
আমি প্রত্যাশা করি, পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন এবং দেশ ও জাতিকে সকল অশান্তি ও বিপদ থেকে হেফাজত করুন।
মজিদপুর ইউনিয়নবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম উম্মাহকে জানাই পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।”