কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
জীবন যেন তার সামনে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা সাজিয়ে রেখেছে। তবুও হার মানতে শেখেননি সুমাইয়া আক্তার মীম। দুই কিডনি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ার পরও বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তিনি আবারও কলেজে ফিরতে চান, বই হাতে ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে চান। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা আর দারিদ্র্য আজ তার সেই স্বপ্নকে থমকে দিয়েছে।
সুমাইয়া আক্তার মীম (২২) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর শহীদ কাজী নজরুল ইসলাম সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের বার কাউনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারটি জগতপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। জীবিকার তাগিদে মিজানুর রহমান প্রায় ১৫ বছর ধরে জগতপুর বাজারে একটি ছোট নাস্তার দোকান চালিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছেন।
অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বড় ছেলে রাশেদ মিয়াকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করিয়েছেন। কিন্তু মেয়ে সুমাইয়ার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে বড় ছেলেকে এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠাতে বাধ্য হন। সেখানে প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে ছেলেটিও আজ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চার বছর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, সুমাইয়ার দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে। পরে পিজি হাসপাতাল
থেকেও একই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। ২০২৫ সালের ২৪ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসসহ চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৯ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, সুমাইয়াকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু সেই ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই পরিবারটির।
মীম বলেন, “আমি আবার সুস্থ হয়ে কলেজে ফিরতে চাই। বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাস করতে চাই। আমি বাঁচতে চাই, আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চাই।”
তার এই অসহায় পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী বাংলাদেশি, মানবিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন জগতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোসাম্মৎ হানু আক্তার, সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সুমাইয়ার জীবন বাঁচাতে সহায়তা পাঠানোর জন্য পরিবারের বিকাশ নম্বর:
বিকাশ: ০১৮৩৬-৬৫০১২৯
মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার সামান্য সহায়তাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে এক তরুণীর স্বপ্ন, শিক্ষা এবং নতুন জীবনের আলো।