শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়তের জন্য স্পিড বোড প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ ৪ আসনের মাননীয় এমপি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষণ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে আজ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জলঢাকায় ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে নতুন বিতর্ক, জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ পিআরএল ছুটি গমনের দিনই পুলিশ সদস্যের হাতে লাম্পগ্রান্ট বিলের চেক তুলে দিলেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কুমিল্লা তিতাসে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাজউদ্দিন ভূঁইয়ার ব্যাপক গণসংযোগর ও প্রচারণা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের ‘গুড মুভ’, প্রার্থী কর্নেল অলি—চাপে বিএনপি পিরোজপুরের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত- সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সহ উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের ‘গুড মুভ’, প্রার্থী কর্নেল অলি—চাপে বিএনপি শিশুদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর অর্জন : ৩ হাজার ৪শত কোটি টাকার অধিক টোল আদায় ও হালনাগাদ ঋণের কিস্তি পরিশোধ

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পদ্মা সেতুর ঋণ পরিশোধ ও টোল আদায় কার্যক্রম নিয়ে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করা হয়। সমীক্ষায় নির্ধারিত ৪-লেনের হাইওয়ে এবং ভবিষ্যতে রেল সংযোগের প্রাথমিক সংস্থান সম্বলিত কারিগরি প্রস্তাবটি পরবর্তীতে সেতুর চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের মুখ্য ভূমিকা পালন করে। উক্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাওয়া প্রান্তে সেতুর অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। উক্ত অনুমোদনের ফলে মাওয়া-জাজিরা রুটটিই দেশের ইতিহাসে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে যুক্ত করার একমাত্র প্রধান রুট হিসেবে স্থায়ী রূপ পায়। সেতুর সংযোগ সড়ক এবং মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্তে নদী শাসনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সীমানা নির্ধারণ ও প্রাথমিক নকশা তৈরি করা হয়। উক্ত ২০০২-২০০৫ মেয়াদের প্রক্রিয়াই পরবর্তীতে নকশা চূড়ান্তকরণ এবং মূল নির্মাণ কাজে যাওয়ার পথকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নির্মিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে দেশের অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মোট ৩০,৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর, ২৬ জুন ২০২২ তারিখ হতে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। চলতি বছর ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল হিসেবে মোট ৩,৪২৯ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন বর্তমানে যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। আজ আনন্দের সাথে আমরা দেশবাসীকে জানাতে পারি যে, পদ্মা সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার ভাগ্যই বদল করেনি, বরং এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কোনো কিস্তি বকেয়া না রেখে যথাসময়ে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছি। একই সাথে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেতুর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই আর্থিক শৃঙ্খলা ও টোল আদায়ের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা অর্থ বিভাগের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে “সবার আগে বাংলাদেশ” বিনির্মাণে সেতু খাতের অবদান কাজে লাগাতে পারবো।

পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সরকারের অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১% সুদহারে ৩৫ বছরের মধ্যে সুদসহ মোট ৩৬,০০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রতি অর্থবছরে ০৪ কিস্তিতে সর্বমোট ১৪০টি কিস্তিতে উক্ত টাকা পরিশোধ করা হবে। আদায়কৃত টোল হতে এখন পর্যন্ত মোট ১৬টি কিস্তিতে ২,৫১৬ কোটি ৬৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা সরকার-এর কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করা হয়েছে; কোনো কিস্তি বকেয়া নেই। এছাড়া, মোট আদায়কৃত টোলের ১৫% ভ্যাট বাবদ মোট ৪৩৬ কোটি ০৭ লক্ষ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারের কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সেতুর সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে Unified National ETC Framework (UNEF) ও অন্যান্য জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিরলসভাবে কর্মরত।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102