শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক তরুণীকে (১৮) ঘরে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত এজাহারনামীয় প্রধান পলাতক আসামি জাকির হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোর ৫ টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া ভূঁইয়াপাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আরও তিন যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। জাকির গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়, জাকির হোসেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার দশমীপাড়া এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন নাসির মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত।
সিফাত (১৮): পিতা মো. জয়নাল, জামগড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে লীলা চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।
মো. মমিন শেখ (২০): পিতা মো. মোবারক শেখ, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার চাপখন্ড এলাকায়। মো. সুমন শেখ (১৮): পিতা মো. দেলোয়ার শেখ, গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার সলংগা থানার রাউলী এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে (গত ২১ জুন) শনিবার আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মমিন শেখ তাকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় দেখা করতে বলে পরবর্তীতে কথা বলার ছলে তারা জামগড়া প্রাইমারি স্কুলের পেছনে সিফাতের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে যায়।
সেখানে তরুণীকে আটকে রেখে সিফাত, মমিন, সুমন ও জাকির পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ধর্ষণ শেষে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওই তরুণীর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগীর মাধ্যমে খবর পেয়ে আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) রাশেদ ও (এসআই) তালেবসহ সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত অভিযানে নামেন। তারা ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকেই সিফাত, মমিন ও সুমনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
তবে ঘটনার পর থেকেই জাকির পলাতক ছিল অবশেষে আজ ভোরে জামগড়া ক্যাম্পের পুলিশের একটি দল ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। তার এই গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে এবং এলাকাবাসী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগার আলী সাংবাদিকদের বলেন আশুলিয়ার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি জাকির হোসেনকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি তিনজনকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।