সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত এর সৌজন্য সাক্ষাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত খুলতে চায় ঢাকা-ওয়াশিংটন তথ্যমন্ত্রীর সাথে সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন ও প্রেস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ কুমিল্লা তিতাসে স্বামীর বাড়িথেকে নিখোঁজ এক সন্তানের জননী কুমিল্লা তিতাসে বিধবাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় মামলা আশরাফুলের মুক্তি ও ওসি অপসারণ দাবিতে ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের মানববন্ধন জলঢাকায় ক্লাবের সঞ্চয়ের ১৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননা, কর্মকর্তাগণ উদাসীন

মাহমুদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননা, কর্মকর্তাগণ উদাসীন

মাহমুদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর, বুধবার

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননার এক মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক ঘটনা চোখে পড়ে। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা যেখানে সর্বোচ্চ সম্মান ও যথাযথ নিয়মে উত্তোলন করার কথা—সেখানে ওই অফিসের ২য় তলার পিলারের উন্মুক্ত রডে যেনতেনভাবে পতাকা বেঁধে রাখা হয়। আজ বিকাল ৩টার দিকে অফিস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকাটি ঠিকমতো খোলা অবস্থায় নেই; বরং ভাঁজ হয়ে, পিলারের রডে জড়ো অবস্থায় উপরে ঝুলছে।

এ দৃশ্য দেখার পর অফিসের এক কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়িত্বহীন ভঙ্গিতে বলেন, “আমরা তো এভাবেই পতাকা বাঁধি, এতে কোনো সমস্যা নাই।” তার এই মন্তব্য শুধু দায়িত্বশৈথিল্য নয়, বরং জাতীয় পতাকার মর্যাদাকে অবজ্ঞা করারই স্পষ্ট প্রমাণ।

এ বিষয়ে ডিজিএম মেহেদী মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, তিনি অফিসের বাইরে আছেন। তিনি এ বিষয়ে এজিএম তাপস চন্দ্র পালের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু এজিএম সাহেবকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। জাতীয় প্রতীক অবমাননার মতো গুরুতর বিষয়ে অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

অফিসে সেবা নিতে আসা যোগেশ চন্দ্র রায় বলেন, “আমি যখনই এখানে এসেছি, তখনই দেখেছি জাতীয় পতাকা এভাবেই পিলারে বেঁধে রাখা থাকে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার।” তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমন অবহেলা বছরের পর বছর চলছে।

আরেক গ্রাহক আব্দুল মাজেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় পতাকা একটি আইন দ্বারা সুরক্ষিত প্রতীক। এটিকে পিলারের রডে জড়ো করে বেঁধে রাখা স্পষ্টতই বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়—এটি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, ত্যাগের স্মৃতি ও জাতির সম্মানের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ সংগ্রাম, লাখো শহীদের রক্ত এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতার গৌরব এ পতাকায় সমুজ্জ্বল। তাই এই পতাকার মর্যাদা রক্ষায় অবহেলা বা উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননার এই ঘটনা শুধু একটি অফিসের অবহেলা নয়—এটি দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও আইন অমান্যের এক স্পষ্ট নিদর্শন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের অবমাননা অব্যাহত থাকবে এবং জনমনে রাষ্ট্রীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান তৈরি হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102