আহসান উল্লাহ খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
দীর্ঘ ২৬ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে ১ লক্ষ ১০ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রোপণ ও বিনামূল্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম পলাশ।
জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা, বন উজাড় এবং জীববৈচিত্র্যের সংকটের এই সময়ে পরিবেশ সংরক্ষণে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা সিরাজগঞ্জ।
মাহবুবুল ইসলাম পলাশ বলেন -“প্রকৃতিকে ভালোবাসা মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভালোবাসা। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি মানুষ, পশু-পাখি ও সমগ্র জীববৈচিত্র্যের জীবনধারণের ভিত্তি। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বৃক্ষ রোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই।”তিনি আরও জানান, দেশের ৬৪ জেলায় বিনামূল্যে বৃক্ষ রোপণ, বৃক্ষ বিতরণ, পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ যাত্রা পরিচালনা করেছেন। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে তাঁর এই দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দুইবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন।
পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা সিরাজগঞ্জ বর্তমানে শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি পরিবেশপ্রেমীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে— বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বৃক্ষের সংগ্রহশালা ও বাগান।
* বিভিন্ন দেশীয় পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে একটি পাখি কলোনি।* পরিবেশ শিক্ষা, প্রকৃতি সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা।
* শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নিয়মিত বৃক্ষ রোপণ, প্রকৃতি শিক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি।প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু বৃক্ষ রোপণ নয়; বরং পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা।পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম পলাশ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“একজন মানুষ যদি অন্তত একটি গাছ রোপণ করে তার সঠিক পরিচর্যা করেন, তবে বাংলাদেশ আরও সবুজ, শীতল ও প্রাণবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে বৃক্ষ রোপণ করি, প্রকৃতিকে ভালোবাসি এবং পরিবেশ রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করি।” পরিবেশপ্রেমীদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু সিরাজগঞ্জ নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ব্যক্তি উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে পরিচালিত এই কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।