কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের উলুকান্দি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। গত রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে শনিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উলুকান্দি পশ্চিমপাড়ার একটি চায়ের দোকানের সামনে মানিক ও আলম নামে দুই ব্যক্তি আহত হওয়ার একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর দাবি, ওই ঘটনার জের ও প্রতিশোধকে কেন্দ্র করেই পরদিন সন্ধ্যায় মানিক ও সুমন গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ৫টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহতরা হলেন— উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত রকিব উদ্দিনের ছেলে মানিক (৪০), শামীম (৬০), আলম (৪৫), শহিদ ভূইয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ (২৫), শামীম ভূইয়ার ছেলে ইয়াছিন (১৮) এবং তারেক ভূইয়ার স্ত্রী শিউলি বেগম (৩০)।
অপর পক্ষের আহতরা হলেন— একই গ্রামের মৃত সুবল মিয়ার ছেলে সুমন (৪৫), মৃত আইয়ুব খানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০) এবং মন্টু মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মমতাজ বেগম (২৭)।
আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। জানা গেছে, অন্তঃসত্ত্বা মমতাজ বেগমের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ইয়াছিন ভূইয়াকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি তিনজন তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, শনিবার রাতের মারামারির ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিশোধের অংশ হিসেবে মানিক গ্রুপের কয়েকজন সদস্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সুমনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। সুমন আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয় এবং বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সুমন পক্ষও মানিক ভূইয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে চারটি ঘর ভাঙচুর করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অনেকেই তিতাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলায় একের পর এক মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উভয় পক্ষই মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সংবাদ সংগ্রহ সাংবাদিক রীপন।