আহসান উল্লাহ খান, স্টাফ রিপোর্টার :
সোমবার (২২ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চল ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৬৪টি পরিবারের মাঝে হাঁস বিতরণ করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রতিটি পরিবারকে ১৫ টি করে উন্নত জাতের হাঁস প্রদান করা হয়।
আনুষ্ঠানিকভাবে এ হাঁস বিতরণ কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন খান।
বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আফিফান নাজমু, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার
এস. এম. নাসিম হোসেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোস্তফা নোমান আলাল, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হারুণ অর রশিদ খান হাসান, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মেরাজ হোসেন মিসবাহ এবং বহুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন, দৈনিক শাদ প্রএিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আব্দুল বাসেদ, প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন খান বলেন, চরাঞ্চল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে হাঁস বিতরণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারগুলো আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এসব হাঁস থেকে বাড়তি আয় করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এসময়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমির হামজা জানান, “উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুবিধাবঞ্চিত ৮৬টি এলাকা ও নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৬৪টি পরিবারের মাঝে ১৫টি করে উন্নত জাতের হাঁস বিতরণ করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো চরাঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের হাঁস বিতরণ কার্যক্রম জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে উপকারভোগীরা যেমন স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে এলাকায় পুষ্টি নিরাপত্তাও নিশ্চিত হচ্ছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।”
“কৈগাড়ী দোরতা গ্রামের আজেদা বেগম বলেন, এই সহায়তা পেয়ে আমাদের সংসারে বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগে যে কষ্টে দিন কাটত, এখন মনে হচ্ছে কিছুটা হলেও স্বস্তির পথ খুলে গেছে। এই হাঁসগুলো লালন-পালন করে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নও জেগেছে, ইনশাআল্লাহ।”এসময় ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মেরাজ হোসেন মিসবাহ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, প্রকল্পের সিইএ মো. মাহমুদুল হাসান লিপন, এলইও মো. রবিউল আলম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. নাসিম হোসেন এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. আব্দুল মোমিন সেখ সহ প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।