নূরনবী সোহেল, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মীর নাদিয়া নিভিন দায়িত্ব নেওয়ার পর বীমা অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। দেশের প্রথম নারী চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নিয়োগ নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কয়েকটি বীমা কোম্পানি ফুলেল শুভেচ্ছা, অভিনন্দন বার্তা ও সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে। এর মধ্যে জীবন ও সাধারণ বীমা—দুই খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়—যারা এখনো শুভেচ্ছা জানায়নি, তারা কোথায়?
তাদের এই নীরবতার কারণ কী? এটি কি কেবল সময়ের অভাব, নাকি নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে এখনো একধরনের দূরত্ব, অস্বস্তি কিংবা হিসাব-নিকাশ কাজ করছে? বীমা খাতের ভেতরে-বাইরে এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।
সাধারণত দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নতুন চেয়ারম্যান বা প্রধান নিয়োগ পেলে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সৌজন্য শুভেচ্ছা জানায়। এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং পারস্পরিক সম্মান, পেশাগত সৌজন্য এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক বার্তাও বহন করে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশের বীমা খাত নানা সংকট, আস্থাহীনতা, দাবি নিষ্পত্তির জট, সুশাসনের অভাব এবং বাজার শৃঙ্খলার প্রশ্নে চাপে রয়েছে—তখন নতুন চেয়ারম্যানকে ঘিরে পুরো খাতের একসঙ্গে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, কিছু কোম্পানি এগিয়ে এলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো দৃশ্যত নীরব। এই নীরবতা নিছক ব্যস্ততার ফল—এমন ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। আবার এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গ্রুপিং, লবিং, ব্যক্তিকেন্দ্রিক অবস্থান ও ক্ষমতার অদৃশ্য বলয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন জাগতেই পারে—কেউ কি এখনো পরিস্থিতি বুঝে নিতে চাইছে? কেউ কি অপেক্ষা করছে বাতাস কোনদিকে যায় তা দেখার জন্য? নাকি নতুন চেয়ারম্যানের সংস্কারমুখী অবস্থান অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে—এই হিসাবেই কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো দূরত্ব বজায় রাখছে?
অবশ্য শুভেচ্ছা দেওয়া না-দেওয়ার মধ্যেই সবকিছুর বিচার শেষ হয়ে যায় না। মূল বিষয় হলো, নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বীমা খাত কতটা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনআস্থাভিত্তিক পথে এগোতে পারে। মীর নাদিয়া নিভিন ইতোমধ্যে সুশাসন, দাবি নিষ্পত্তি, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আধুনিক তদারকি কাঠামোর কথা বলেছেন। এখন দেখার বিষয়, বীমা কোম্পানিগুলো তাঁর এই উদ্যোগের পাশে কতটা আন্তরিকভাবে দাঁড়ায়।
ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো সহজ; কিন্তু প্রকৃত শুভেচ্ছা হবে নিয়ম মেনে চলা, গ্রাহকের দাবি দ্রুত পরিশোধ করা, আর বীমা খাতকে আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনার কাজে সহযোগিতা করা। তবু প্রশ্নটি থেকেই যায়—যারা এখনো শুভেচ্ছা জানায়নি, তাদের নীরবতা কি কেবল আনুষ্ঠানিক বিলম্ব, নাকি এর আড়ালে রয়েছে অন্য কোনো সংকেত? সময়ই হয়তো তার উত্তর দেবে।