শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় র্যাব পরিচয়ে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়েরের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ ভুয়া র্যাব চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া র্যাবের পরিচয়পত্র, পোশাক জ্যাকেট ও ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ এবং খেলনা পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম সুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়েরের পরপরই অ্যাকশনে নামে ঢাকা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহিদুল ইসলাম খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা দক্ষিণ ডিবির (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, ডাকাত চক্রের সদস্যরা একটি টয়োটা মাইক্রোবাসযোগে সাভারের আকরাইন এলাকা হয়ে খাগান বাজারের দিকে যাচ্ছে। এই খবরের ওপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানার আকরাইন বাজার মোড় এলাকায় ওত পেতে থাকে ডিবির একটি দল। পরে সাগর মেশিনারিজ ওয়ার্কশপ এর সামনে সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
তল্লাশিকালে মাইক্রোবাসটি থেকে অপরাধে ব্যবহৃত
৩টি ভুয়া র্যাব পরিচয়পত্র, ৫টি র্যাব লেখা কালো জ্যাকেট ও ৫টি র্যাব ক্যাপ, ১টি ওয়াকিটকি সেট ও ৩টি স্টিলের হ্যান্ডকাফ, ১টি খেলনা পিস্তল ও ১টি পিস্তলের কভার, ৬টি ভুয়া নম্বর প্লেট এবং ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস।
ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের পাঁচ সদস্য হলেন আশরাফুল ইসলাম ওরফে আপেল (৩৮), সুমন (৩৬), সারোয়ার হোসেন সাগর (৩৫), সুমন ওরফে ক্যাপ সুমন (৩৫) এবং কাঞ্চন (৩৫)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতি, ছিনতাই ও প্রতারণা করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন রয়েছে।
ঢাকা জেলা দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭০, ১৭১, ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশের এমন কঠোর ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।