নিজস্ব প্রতিবেদক :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী কলেজ রোডের মিদ্দা বাড়ি এলাকায় একটি জমিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৈধভাবে ক্রয় করা জমি অন্য একটি সম্পত্তির সঙ্গে একই বাউন্ডারির ভেতরে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি জমির সামনে স্থাপিত একটি ব্যাংকের সাইনবোর্ড নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আজিম মিঞার দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি স্থানীয় ব্যক্তি আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করেন। জমিটি যথাযথভাবে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও এখনো নামজারি করা হয়নি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি বিক্রির সময় বিক্রেতা নিজেই নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
ঢাকায় বসবাসের কারণে দীর্ঘদিন জমিটির খোঁজখবর রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান আজিম মিঞা। সম্প্রতি স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার মালিকানাধীন জমি পাশের ১৮ শতক জমির সঙ্গে একত্রে বাউন্ডারি দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এতে মোট সাড়ে ২৩ শতক জমি একই বেষ্টনীর মধ্যে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আজিম মিঞার সঙ্গে স্থানীয় ব্যক্তি ফরহাদের বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলে জানা যায়। একপর্যায়ে তানভীরুর রহিম সম্রাটকে বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে আজিম মিঞা বলেন, নিজের সম্পত্তির বিষয়ে কাকে দায়িত্ব দেবেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনেছি। আমার জমিতে কার অনুমতিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটির জবাব আমি জানতে চাই।”
এদিকে ঘটনাটিকে আরও জটিল করেছে জমির সামনে স্থাপিত একটি সাইনবোর্ড। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে সম্পত্তিটি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ বা বন্ধক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, অন্যের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি কীভাবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো এবং এর আইনগত ভিত্তি কী—তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
জমি ক্রয়ের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী তানভীরুর রহিম সম্রাট জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাউন্ডারি নির্মাণের বিষয়টি দেখতে পান। পরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি হুমকি ও অশালীন আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ভয়েস রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি ভয়েস বার্তায় তিনি এ বিষয়ে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে জিএস রুবেল ও মনজুরুল আজিম সুমন অবগত আছেন।” তবে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, বাউন্ডারি নির্মাণের বৈধতা পরীক্ষা, ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে স্থাপিত সাইনবোর্ডের আইনগত অবস্থান নিরূপণ এবং দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে।