আলী আহসান রবি :
২৮ জুলাই ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে যাঁরা এখনো গেজেটভুক্ত হননি, তাঁদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে শহীদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও পাকাকরণের উদ্যোগও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার ২৮ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদেরকে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার কথা নোট করে নিয়েছি এবং সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সফরসূচি অনুযায়ী পাঁচটি শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা থাকলেও পরে আরও দুটি শহীদ পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৩০ জুলাই শহীদ হলেও ওই ব্যক্তিকে এখনো গেজেটভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২ হাজার হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৪৩ জনকে গেজেটভুক্ত করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হলে দুই বছর পর এসে শহীদের সংখ্যা নির্ধারণে এমন বেগ পেতে হতো না এবং বর্তমান পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতো না।
ইশরাক হোসেন বলেন, যাঁরা এখনো তালিকাভুক্ত বা গেজেটভুক্ত হননি, অথচ জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাতুয়াইল কবরস্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে জুলাই আন্দোলনের ১৭ জন শহীদকে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো তাঁদের কবর স্থায়ী করা হয়নি, পাকাকরণ করা হয়নি এবং স্থায়ীভাবে বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সারা দেশে শহীদদের কবর স্থায়ী ও পাকা করার জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কবরগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব কবর স্থায়ী করা হবে, পাকাকরণ করা হবে এবং স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যাঁরা এখনো গেজেটভুক্ত হতে পারেননি, তাঁদের শনাক্ত করে গেজেটভুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে ভুয়া বা জাল কাগজপত্র দিয়ে কেউ গেজেটভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে তিনি নিজেই ১২টি গেজেট বাতিল করেছেন। তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হননি; বরং তাঁরা ফ্যাসিবাদের ব্যানারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর তাঁদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, এখনো যদি কেউ প্রতারণার মাধ্যমে গেজেটভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রকে ফাঁকি দিয়ে কেউ তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।