শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাদক মামলার সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে জয়নাল মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিহ্নিত এক আসামির বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা চেয়ে তিনি গত ১২ জুলাই আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩২৯) দায়ের করেছেন।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জয়নাল মিয়া ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া (মানিকগঞ্জ পাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার (মামলা নং-৪১) এক নম্বর এজাহারভুক্ত সাক্ষী।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জামগড়ার ছয়তলা রূপায়ণ মাঠ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন জয়নাল। এ সময় ওই মামলার এক আসামি ইয়াসিন মিয়া (৩০) অজ্ঞত আরো ৪-৫ জন তার পথরোধ করেন। মামলায় সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারা জয়নালকে গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী জয়নাল মিয়া আকুতি জানিয়ে বলেন আসামিরা যেকোনো সময় আমার বা আমার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমরা চরম আতঙ্কে আছি। ভবিষ্যতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেছি।
এদিকে এলাকার বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত ইয়াসিন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। শুধু মাদকই নয়, ছিনতাই, ফিটিংবাজি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে সে টেন ইয়াসিন নামে পরিচিত এলাকার কিশোরদের নিয়ে সে একটি বিশাল কিশোর গ্যাং তৈরি করেছে, যা তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী হিসেবে কাজ করে। কোনো সাধারণ মানুষ তার অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এই গ্রুপটি।
এলাকাবাসীর শঙ্কা, প্রকাশ্যে এভাবে মাদক কেনাবেচা এবং ইয়াসিনের বাহিনীর দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে অনতিবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।