মশিউর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল ও ক্যাচমেন্ট এলাকায় শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের সংকট রয়েছে। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না। ফলে অন্য এলাকা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু সেসব এলাকাতেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। তবে এর সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “সারা দেশের শিক্ষার মান কিছুটা খারাপ হলেও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, সেখানকার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, তিনটি স্কুল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি সাতজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫জন শিক্ষার্থী ইংরেজি
রিডিং ও যোগ গণিত অংক করতে পারেনা। তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিক্ষকদের তাদের বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মসূচির শুরুতে বিভিন্ন স্থানে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এজন্য এখন নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রতিটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে একজন ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে। তাদের অনুমোদনের পরই বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করা যাবে।
তিনি জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা কারখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করবেন। খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে মায়েদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা খাবার গ্রহণের আগে তা পরীক্ষা করবেন। এছাড়া সরবরাহকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব স্থানে এসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, সেখানে প্রায় শূন্য ত্রুটিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও কোথাও অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আগে পিটিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস।
পরে দুপুরে প্রতিমন্ত্রী তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুলেমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটাবুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু, তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী, মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।