মশিউর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহালের ইজারাদার শাহ্ রুবেল আহমদ ও নাছির মিয়া নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু লুটপাট ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।যাদুকাটায় ড্রেজারে পাড় কাটার মহোৎসব: বালু লুট রুখতে নদীতে বাঁশের বেড়া দিলেন ইজারাদাররা , সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহত্তম বালুমহাল ‘যাদুকাটা-১’ ও ‘যাদুকাটা-২’ নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় ইজারাদাররা। রাতদিন প্রকাশ্যে একটি চক্র কর্তৃক নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর ক্ষতি করে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে এবং তা প্রতিরোধে এবার নদীতে ও তীরজুড়ে বাঁশের বেড়া নির্মাণ করছেন ইজারাদার শাহ্ রুবেল আহমদ এবং নাছির মিয়া।ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ইজারাদারদের বক্তব্যপ্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের জটিলতা কাটিয়ে প্রায় ১০৭ কোটি টাকায় যাদুকাটা নদীর দুটি মহাল ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু ইজারা কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় একটি চক্র রাতের আধারে এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ ড্রেজার ও সেইভ মেশিন দিয়ে নদীর তীর কেটে বালু লুটপাট শুরু করে। যাদুকাটা-২ মহালের ইজারাদার শাহ্ রুবেল আহমদ জানান, “আমরাও চাই নদীর পাড় কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ হোক। কিন্তু কিছু লোভী মানুষ নিজেদের জমি বিক্রি করে এবং অন্য পক্ষ তা কিনে নদীর পাড় কেটে বালু তুলছে। এতে বৈধ ইজারাদার হিসেবে আমাদের ওপর দায় আসছে এবং বদনাম হচ্ছে। এই অবৈধ বালু লুট ঠেকাতে আমরা প্রশাসনকে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আবেদন জানিয়েছি এবং বাধ্য হয়ে নদীর তীরে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের বেড়া দিচ্ছি।”অপরদিকে যাদুকাটা-১ মহালের ইজারাদার মো. নাছির মিয়া-এর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও নদী ধ্বংসের সাথে জড়িত ৫১ জনের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। হুমকিতে ঘরবাড়ি ও শিমুল বাগানস্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সনাতন পদ্ধতিতে (শ্রমিক দিয়ে) বালু তোলার নিয়ম থাকলেও ড্রেজার ও যান্ত্রিক দানব ব্যবহারের ফলে নদীর দুই পাড় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। এর ফলে তীরবর্তী প্রায় ২০টি গ্রাম, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীনের হুমকিতে পড়েছে। এমনকি দেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র ‘শিমুল বাগান’ ও বারিক টিলার পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাও এই অবৈধ পাড় কাটার কারণে তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কঠোর তৎপরতাঅবৈধভাবে মব বা জটলা তৈরি করে নদীর পাড় কাটা রুখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাড় কাটা ঠেকাতে ইতোমধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সে বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সদস্যরা যুক্ত আছেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। ইতোপূর্বেও অবৈধ বালু উত্তোলনের অপরাধে বেশ কয়েকজনকে আটক করে কারাদণ্ড ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।