জাকির হোসেন, উল্লাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘Combating Human Trafficking through Strengthening 4Ps প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত অনিরাপদ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম। তিনি মাঠপর্যায়ে কর্মরত সকলকে এ ধরনের কোনো ঘটনা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া মানব পাচার প্রতিরোধে ব্র্যাকের গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করে সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনেকেই সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে তারা নানা ধরনের প্রতারণা, শোষণ ও ঝুঁকির মুখে পড়েন। অনিরাপদ অভিবাসনের সুফল-কুফল এবং মানব পাচারের বাস্তব ঘটনা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব দৃষ্টান্ত প্রচারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও উপলব্ধি সৃষ্টি করা সম্ভব তাই মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই’
মানব পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই
উপজেলা প্রশাসন ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার রিমা, উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জ (তদন্ত) রুপু কর, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং শিক্ষকবৃন্দ।
সভায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর প্রমা প্রিসিলা ম্রং। মতবিনিময় সভায় উল্লাপাড়া থানার অফিসার ইন-চার্জ (তদন্ত) রুপু কর বলেন, “মানব পাচার বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ দালালের প্ররোচনায় পড়ে সব হারায়, অত্যাচারের শিকার হয়, ভিটেমাটি বিক্রি করে পথে বসে যায়, পরিবারগুলো ভেঙে পড়ে এবং কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছে। দালাল যখন লোভ দেখায়, তারা (ভুক্তভোগীরা) তখন আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করে। ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।” পাশাপাশি তিনি ব্র্যাকসহ সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আঃ কাদের বিশ্বাস বলেন, “মানুষ মানব পাচারের শিকার হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তারা সঠিক তথ্য জানেন না—কার কাছে যাবে, কীভাবে যাবে, কোন এজেন্সিকে বিশ্বাস করা যায়। তাছাড়া বৈধভাবে যেতে গিয়েও অনেকে বিভিন্নভাবে হেনস্থার শিকার হন। তাই তারা সহজে যাওয়ার জন্য দালালের পথ বেছে নেন।” রেমিট্যান্স দেশের আয়ের একটি বড় উৎস উল্লেখ করে তিনি সরকারিভাবে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনার তাগিদ দেন, যাতে মানব পাচারের সংখ্যা কমে আসে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।