শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়তের জন্য স্পিড বোড প্রদান করেন সিরাজগঞ্জ ৪ আসনের মাননীয় এমপি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এআই ব্যবহার নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশিক্ষণ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সাথে আজ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জলঢাকায় ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের চেয়ার নিয়ে নতুন বিতর্ক, জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ পিআরএল ছুটি গমনের দিনই পুলিশ সদস্যের হাতে লাম্পগ্রান্ট বিলের চেক তুলে দিলেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার কুমিল্লা তিতাসে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাজউদ্দিন ভূঁইয়ার ব্যাপক গণসংযোগর ও প্রচারণা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের ‘গুড মুভ’, প্রার্থী কর্নেল অলি—চাপে বিএনপি পিরোজপুরের আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত- সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সহ উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের ‘গুড মুভ’, প্রার্থী কর্নেল অলি—চাপে বিএনপি শিশুদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ..ঘনঘন কম্পনে বাড়ছে শঙ্কা, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ

ফারজানা ফারাবী
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

ফারজানা ফারাবী, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ একদিনে দু’দফা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। রোববার (২২ জুন) বিকেলে প্রথমে তুলনামূলক কম মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, পরে রাত ০৯.৩০মিঃ দিকে আবারও শক্তিশালী কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৫, যার কেন্দ্র ছিল রংপুরের উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৪৩ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ০৯.৩০ মিনিটে অনুভূত দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৯, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম অঞ্চলে, ঢাকা থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দূরে। এই কম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।

একদিনে পরপর দুই দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো—দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল ভবন নির্মাণ, সরু সড়ক, জনঘনত্ব এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার সীমাবদ্ধতা। ফলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এ বাস্তবতায় শুধু আতঙ্ক নয়, সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে সিঁড়িতে নামার চেষ্টা না করে ‘ড্রপ, কাভার, হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে—অর্থাৎ নিচু হয়ে বসা, মজবুত টেবিল বা আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং শক্তভাবে ধরে থাকা। বাসা, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্গমনপথ, খোলা নিরাপদ স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, টর্চ, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত। পরিবারভিত্তিক একটি জরুরি পরিকল্পনাও থাকা দরকার, যাতে দুর্যোগের সময় কে কোথায় যাবে এবং কীভাবে যোগাযোগ করবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।
সরকারের পক্ষ থেকেও এখন সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সংস্কার বা অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত মহড়া চালু করা জরুরি। পাশাপাশি, দেশের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিক করা, দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি উন্নত করা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোও সময়ের দাবি।
ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব—যদি এখনই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র একসঙ্গে প্রস্তুত হয়। ঘনঘন ভূমিকম্পের এই বার্তা তাই আতঙ্কের নয়, বরং সতর্ক হয়ে ওঠার শেষ সুযোগ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102