নিজস্ব প্রতিবেদক :
চারদিক থেকে আক্রমণ আসুক,
মিথ্যার তীর ছুটে আসুক বুকের দিকে,
অপবাদ, অবিচার, ষড়যন্ত্রের ঝড় উঠুক—
তবুও আমি মাথা নত করবো না।
কারণ আমি জানি,
দুনিয়ার আদালত ভুল করতে পারে,
ক্ষমতার পাল্লা কখনো অন্যায়ের দিকে ঝুঁকতে পারে,
কিন্তু সময়ের আদালত
আর রবের আদালতে
এক বিন্দু সত্যও হারিয়ে যায় না।
আজ যারা সত্যকে বন্দী করতে চায়,
তারা ভুলে যায়—
প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পদচিহ্ন,
প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস,
প্রতিটি অবিচার এবং প্রতিটি প্রতিবাদ
লিপিবদ্ধ হচ্ছে আসমানের খাতায়।
আজ তারা হাসে,
ক্ষমতার উঁচু মঞ্চে দাঁড়িয়ে;
আজ তারা গর্জে,
মিথ্যার পতাকা হাতে নিয়ে।
কিন্তু তারা জানে না—
সময় কখনো কারও পক্ষে সাক্ষ্য গোপন করে না।
আমি ভয় পাই না অপবাদকে,
ভয় পাই না পথের কাঁটাকে,
ভয় পাই কেবল সেই দিনকে—
যেদিন রব জিজ্ঞেস করবেন,
“সত্য জানার পরও তুমি কেন নীরব ছিলে?”
তাই আমি দাঁড়াই,
একাকী হলেও দাঁড়াই,
আহত হলেও দাঁড়াই,
পরাজিত দেখালেও দাঁড়াই,
কারণ সত্যের সৈনিকরা
সংখ্যায় নয়,
সাহসে পরিচিত হয়।
দুনিয়ার বিজয় ক্ষণস্থায়ী,
দুনিয়ার সিংহাসন ভঙ্গুর,
দুনিয়ার করতালি প্রতারণাময়;
কিন্তু আখিরাতের বিজয়
চিরস্থায়ী ও মহিমান্বিত।
যারা সত্যের পথে চলে,
তাদের পথ রক্তাক্ত হতে পারে,
তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মিছিল বের হতে পারে,
তাদের চরিত্রে কালি লাগানোর চেষ্টা হতে পারে;
তবুও তাদের পরিণতি অপমান নয়,
তাদের জন্য অপেক্ষা করে
রবের সন্তুষ্টি ও জান্নাতের সুসংবাদ।
আজ যদি হারি,
কিন্তু সত্য না হারাই—
তবে আমি বিজয়ী।
আজ যদি কাঁদি,
কিন্তু ঈমান না হারাই—
তবে আমি সফল।
আজ যদি একা হয়ে যাই,
কিন্তু রবকে না হারাই—
তবে আমি নিঃস্ব নই।
কারণ শেষ বিচারে
মানুষের রায় নয়,
ক্ষমতাবানের সিদ্ধান্ত নয়,
মিথ্যার প্রচারণা নয়,
কোনো সংবাদপত্রে শিরোনাম নয়—
রবের ফয়সালাই হবে চূড়ান্ত।
সেদিন সময় সাক্ষ্য দেবে,
জমিন সাক্ষ্য দেবে,
আমলনামা খুলে যাবে,
আর সত্য মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
মিথ্যা তখন নিজের ভারেই ভেঙে পড়বে,
অত্যাচার তখন নিজের আগুনেই পুড়ে যাবে,
আর ধৈর্যশীল মুমিনরা বলবে—
“আলহামদুলিল্লাহ!
আমাদের রব সত্যের ওয়াদা পূর্ণ করেছেন।”
তাই দুনিয়ার ঝড় আমাকে থামাতে পারে না,
অপবাদ আমাকে নত করতে পারে না,
ষড়যন্ত্র আমাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না।
কারণ আমার লক্ষ্য দুনিয়ার প্রশংসা নয়,
আমার গন্তব্য আখিরাতের বিজয়।