সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪র্থ সভা অনুষ্ঠিত, দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর ঢাকা– নারিতা – ঢাকা রুট পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাঅধিকার কুমিল্লা তিতাসে উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক সমিতি কমিটি গঠন কুমিল্লা তিতাসের শাহবৃদ্ধি মধ্য পাড়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৪ হাজার হাজার টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি —-প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সরকার শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাখাতের সব ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে —— শিক্ষা মন্ত্রী ঢাকাস্থ তিতাস জাতীয়তাবাদী ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত জীবনযুদ্ধে হার মানতে চান না কিডনি রোগে আক্রান্ত শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মীম

আদর্শের রাজনীতিতে অবিচল প্রতিচ্ছবি বিএনপির নেতা, মো: শহীদ উল্লাহ

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শহীদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি কোনো আলোচিত নেতা নন, বরং নীরবে কাজ করে যাওয়া একজন আদর্শনিষ্ঠ সংগঠক, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি দলীয় আদর্শের প্রতি অটুট আনুগত্য।
১৯৮২ সালে এসএসসি পাস করার পর স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করে তিনি ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। সরকারি চাকরির বিধিনিষেধের কারণে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ সীমিত থাকলেও দলীয় আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। এমনকি দায়িত্ব এড়িয়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে বিভিন্ন সময়ে চাকরিজীবনেও নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে।
চাকরি জীবনের সময়েও মোঃ শহীদ উল্লাহ নিজ এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। যখনই তিনি কর্মস্থল থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তখনই স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর এই স্পষ্টবাদী ও প্রতিবাদী অবস্থানের কারণে তিনি আওয়ামী লীগপন্থী অনেক নেতাকর্মীর বিরাগভাজন হন এবং একপর্যায়ে তাদের চোখের কাঁটায় পরিণত হন। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে প্রশাসনিক ও পুলিশি হয়রানিরও শিকার হতে হয়েছে। তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁকে আদর্শিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং তিনি এলাকায় একজন সাহসী, ন্যায়নিষ্ঠ ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি বলরামপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে দীর্ঘদিন কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও অবসরোত্তর সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে রাজনীতিতে সময় দিতে শুরু করেন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচারণার সময়ও তাঁর অবস্থান ছিল দল কেন্দ্রিক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস আবদুল মতিন খান যখন এলাকায় ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন, তখন শহীদ উল্লাহও কয়েকবার তাঁর সঙ্গে মাঠে কাজ করেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “দলের মনোনয়ন যিনি পাবেন, আমি তাঁর পক্ষেই কাজ করব।”
পরবর্তীতে বিএনপির মনোনয়ন পান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই শহীদ উল্লাহ ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
শহীদ উল্লাহর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৃতজ্ঞতাবোধ। চাকরিজীবনের বিভিন্ন জটিল সময়ে সহযোগিতা পাওয়ার কারণে তিনি আবদুল মতিন খানের প্রতি প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি।
স্থানীয় ভোটের রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবও কম নয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত সততার কারণে তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। অনেকেই মনে করেন, সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা দলের কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিহিংসাপরায়ণ নেতাকর্মীর কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও তিনি প্রকাশ্য বিরোধ বা বিতর্কে না জড়িয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে আদর্শভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে। সেই বাস্তবতায় মোঃ শহীদ উল্লাহর মতো কর্মীরা একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। কারণ তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং বিশ্বাস ও আদর্শের ধারক হিসেবে দেখেন।
দীর্ঘ চাকরিজীবন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের মধ্য দিয়ে মোঃ শহীদ উল্লাহ নিজেকে একজন ত্যাগী, সাহসী ও আদর্শনিষ্ঠ বিএনপি কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে, পদ-পদবী নয়, আদর্শের প্রতি নিষ্ঠাই একজন কর্মীর প্রকৃত পরিচয়। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য তাঁর এই পথচলা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102