আলী আহসান রবি :
১৫ জুন, সোমবার;
আজকের এই প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইবোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পর্কের বাস্তবতায় ঢাকা– নারিতা – ঢাকা রুট পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ এবং সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করার জন্য আজকের প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে।
• আপনারা অবগত আছেন যে, ২০২৫ সালের ০১ জুলাই থেকে ঢাকা- নারিতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছিল। ততকালীন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক কার্যকারিতা, বিমান সংকট, বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
• বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটে ৩০শে জুনের মধ্যে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করে।
• তবে Japan Civil Aviation Bureau (JCAB) কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (Safety Audit) সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে। এ কারনে সংশ্লিষ্ট সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ২৭ জুলাইকে সম্ভাব্য বিবেচনায় রেখে ঢাকা – নারিতা –ঢাকা ফ্লাইট পুনরায় চালু করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
• প্রাথমিকভাবে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে সপ্তাহে ১ (এক)টি করে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা হবে। বিমানের বর্তমান বহরের ওয়াইড বডি Boeing 787-800 Dreamliner এঁর মাধ্যমে টিকেটের যৌক্তিক মুল্য বজায় রেখে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হবে।
• পরবর্তীতে বিমান বহরে এয়ারক্রাফট সংযোজন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ২০ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটের টিকিট বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে এবং তা বিমানের ওয়েবসাইটসহ সকল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
• আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন কোনো রুটকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। বাজারে অবস্থান তৈরি, যাত্রী আস্থা অর্জন এবং চাহিদা বৃদ্ধি ধাপে ধাপে ঘটে। ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। তবে কার্যকর বিপণন কৌশল গ্রহণ, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু পরিচালনার ফলে রুটটির সম্ভাবনা ক্রমেই শক্তিশালী হবে বলে আমরা আশা করি।
• জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক দিনদিন আরো গভীর হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জাপানে বাংলাদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং সরকারি পর্যায়ে কানেক্টিভিটি উন্নয়নের উদ্যোগের ফলে ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যথাযথ পরিকল্পনা ও বিপণন কার্যক্রমের মাধ্যমে রুটটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও টেকসই করে তোলার সুযোগ রয়েছে।
• আমরা বিশ্বাস করি, ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুট পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং জনগণের যোগাযোগ আরো শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ককে আরো গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
• আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি রুট পুনরায় চালু করা নয় বরং বাংলাদেশকে আরো সংযুক্ত করা, নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা। সবাইকে ধন্যবাদ।
বক্তব্য (প্রতিমন্ত্রী)
প্রেস কনফারেন্স
আজকের এই প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইবোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আপনাদের মাধ্যমে দেশের জনগন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় অগ্রযাত্রার খবর জানতে পারে।
আমরা ৩০ শে জুনের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–নারিতা-ঢাকা ফ্লাইট চালু করতে পারবো বলে আপনাদেরকে অবহিত করেছিলাম। কিন্তু কিছু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারনে ফ্লাইট চালুর তারিখ ২৭ শে জুলাইয়ে পিছিয়ে নেয়া হয়েছে। এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
• আপনারা জানেন রাজনৈতিকভাবে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য গত ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ঢাকা–নারিতা –ঢাকা ফ্লাইটটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। কারন হিসেবে বলা হয় বাণিজ্যিক কার্যকারিতা, বিমান সংকট ও পরিচালন ব্যয়। কিন্তু আমরা দেখেছি যখন এই ফ্লাইট লাভজনক অবস্থানে পৌছাতে শুরু করে ঠিক তখনই সেটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
• বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটে ৩০শে জুনের মধ্যে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার নির্দেশনা প্রদান করে।
• তবে Japan Civil Aviation Bureau (JCAB) কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিরীক্ষা (Safety Audit) সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজনীয়তা দেখানোয় ফ্লাইট চালুর তারিখ পিছিয়ে ২৭ শে জুলাই করা হয়েছে।
• প্রাথমিকভাবে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে সপ্তাহে ১ (এক)টি করে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করা হবে। বিমানের বর্তমান বহরের ওয়াইড বডি Boeing 787-800 Dreamliner এঁর মাধ্যমে টিকেটের যৌক্তিক মুল্য বজায় রেখে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হবে।
• পরবর্তীতে বিমান বহরে এয়ারক্রাফট সংযোজন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ২০ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকা–নারিতা–ঢাকা রুটের টিকিট বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে এবং তা বিমানের ওয়েবসাইটসহ সকল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
• বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশের ৪০ হাজারের ও বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মী রয়েছেন এবং এ সংখা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। আমরা যখন ফ্লাইটের ব্যাপারে ঘোষণা দেই তখন জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকের উচ্ছাস দেখেছি। ফলে যথাযথ পরিকল্পনা এবং কার্যকর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রুটটি ভবিষ্যতে লাভজনক ও টেকসই হবে বলে আমরা আশা করি।