কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লা তিতাস উপজেলার কাপাশকান্দি গ্রামে এক চিহ্নিত চো’রকে ধ’রিয়ে দেওয়ার ক্ষো’ভে সাইফুল ইসলাম মুন্সি ও আলাউদ্দিন মুন্সিসহ তিনজনকে কু’পিয়ে হ’ত্যার চেষ্টা, ঘরবাড়িতে হা’মলা-ভা’ঙচুর এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লু’টপাটের অ’ভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আ’সামি করে তিতাস থানায় মা’মলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ইকরাম হোসাইন মুন্সি (২৮)।
ঘটনাটি গত ৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কড়িকান্দি (সদর) ইউনিয়নের কাপাশকান্দি গ্রামের অরুণ মিয়া মুন্সির বাড়িতে ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাপাশকান্দি গ্রামের মৃত রেনু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে আবুলেছ (৩৩) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চু’রি করে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের অ’ভিযোগ। তার বিরুদ্ধে গ্রামে অন্তত ১৫টি বড় ধরনের চু’রির অ’ভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আ’তঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের টাকা চু’রির ঘটনায় তাকে আ’টক করে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেন সাইফুল ইসলাম মুন্সি ও আলাউদ্দিন মুন্সি। পরে স্থানীয় সুধীজন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তাকে পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের অ’ভিযোগ, জামিনে মুক্ত হয়ে আবুল হোসেন ওরফে আবুলেছ তার সহযোগীদের নিয়ে প্রতিশোধমূলক হা’মলার পরিকল্পনা করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এলাকায় সক্রিয় একটি চো’রচক্র এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কিশোরের একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপও এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে।
এ ঘটনায় গুরুতর আ’হত হয়েছেন সাইফুল ইসলাম মুন্সি, আলাউদ্দিন মুন্সি ও অরুণ মিয়া মুন্সি। আ’হতদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের অবস্থা আ’শঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অপর আ’হত আলাউদ্দিন মুন্সিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অরুণ মিয়া মুন্সি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মা’মলায় আ’সামি করা হয়েছে কাপাশকান্দি গ্রামের ডিপটি মোল্লার ছেলে মো. অপু মোল্লা (৩০), মো. কবির মুন্সির ছেলে মো. ফরহাদ মিয়া (২৫), মৃত আক্কেল আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫), মৃত আবদুল খালেকের ছেলে মো. সামছুল হক (৫০), তার সহোদর ভাই মো. আব্দুস ছাত্তার (৪৫), মো. নুরুজ্জামানের ছেলে সামির হোসেন (২৩), মৃত রেনু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে আবুলেছ (৩৩), তার সহোদর ভাই জহির মিয়া (৪৫), মো. মফিজ উদ্দিন (৩৬) এবং মাওলান মিয়ার ছেলে মো. ছালাম মিয়া (৪০)-কে। এছাড়া আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আ’সামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চু’রির ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা লা’ঠিসোটা, লোহার র’ড, পাইপ, রা’মদা, চা’পাতি ও চাইনিজ কু’ড়ালসহ দেশীয় অ’স্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা অকথ্য ভাষায় গা’লিগালাজ শুরু করে। এতে বাধা দিলে সাইফুল ইসলাম মুন্সির ওপর হা’মলা চালানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই আলাউদ্দিন মুন্সি ও বাবা অরুণ মিয়া মুন্সিকেও মা’রধর করা হয়।
অ’ভিযোগ অনুযায়ী, অপু মোল্লা, ফরহাদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, সামছুল হক, আব্দুস ছাত্তার ও জহির মিয়াসহ অন্যান্য আসামিরা ধা’রালো অ’স্ত্র ও লোহার পাইপ দিয়ে হা’মলা চালিয়ে সাইফুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন মুন্সিকে গুরুতর জ’খম করে। এতে সাইফুল ইসলামের মাথা, ভ্রুর ওপর, হাত ও পায়ে গুরুতর ক্ষ’ত সৃষ্টি হয়। আলাউদ্দিন মুন্সির মাথা, হাত ও পায়েও গুরুতর আ’ঘাত লাগে। এ ছাড়া অরুণ মিয়া মুন্সিকেও মা’রধর করে আহত করা হয়েছে বলে অ’ভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হা’মলার একপর্যায়ে আসামিরা বসতঘরের স্টিলের আ’লমারির তালা ভে’ঙে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের স্ত্রীর প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ টাকা, নিয়ে যায় বলে অ’ভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভা’ঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষ’য়ক্ষতি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকা’রে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হা’মলাকারীরা প্রা’ণনাশের হু’মকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হলে আ’হত সাইফুল ইসলাম মুন্সি ও আলাউদ্দিন মুন্সির পিতা মো. অরুণ মিয়া মুন্সি (৭৫), মাতা মোছা. বিলকিস বেগম (৬০), বড় বোন মোছা. সখিনা বেগম, ভাই মো. ইব্রাহিম মুন্সি এবং চাচা হাবিবুর রহমান (৭০) বলেন, “চো’রকে ধরিয়ে দেওয়ার কারণেই আমাদের পরিবারের ওপর এই হা’মলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে নারী-পুরুষ ও শিশু বাচ্চাসহ আমাদের ৪টি পরিবারের প্রায় ৩০ জন মানুষ চরম নিরাপ’ত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রে’প্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তির দাবি জানাই।”
এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আ’হতদের ছবি ও ঘটনার বিবরণ ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রে’প্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে।”