স্টাফ রিপোর্টার :
চাকরি, কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট, পদ-পদবী প্রদান ও হাওলাতের নামে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশনের প্রধান নুরুল্লাহ আল আমিন এবং তার সহযোগী মুশকিল আহমেদ রনির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ সংগ্রহের পর অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনায় একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করা হতো। এসব গ্রুপের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ, বিভিন্ন পদ-পদবী প্রদান এবং নানা কার্যক্রমের প্রচারণা চালানো হতো। তবে বর্তমানে অধিকাংশ গ্রুপ বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। ফলে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
অভিযোগকারীরা জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই নুরুল্লাহ আল আমিন ও মুশকিল আহমেদ রনির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর কোনো অফিস বা নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের ঠিকানাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চাকরি, কর্পোরেট সিম, সম্মাননা ক্রেস্ট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা না পাওয়ায় তারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করছেন।
সিলেটের ভুক্তভোগী এনাম চৌধুরী জানান, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এরপর থেকেই অভিযুক্তদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অপর ভুক্তভোগী আব্দুর রব বলেন, চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত পেলেও বাকি ৫০ হাজার টাকা এখনো পাননি। তিনি বলেন, “আমি আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে, ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এই সংস্করণে শিরোনাম, লিড এবং উপস্থাপনা আগের তিনটি সংস্করণ থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, যাতে এটি চতুর্থ পত্রিকায় স্বতন্ত্র প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করা যায়।