আলী আহসান রবি :
কলম্বো, শ্রীলঙ্কা, ২৫জুন ২০২৬:
২৩-২৪, ২০২৬ খ্রি. তারিখে দুই দিনব্যাপী শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি। এই সম্মেলন যৌথভাবে সার্ক, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাগণ, সার্ক মহাসচিব এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি (VAC) সহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপনকালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশের প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ, সুরক্ষিত, মর্যাদাপূর্ণ ও ক্ষমতায়িত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে বর্তমান সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
সার্কভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিশু অধিকারকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জন্ম নিবন্ধনের হার বৃদ্ধি এবং শিশুদের ওপর সহিংস শাসন কমে আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সরকারের সমন্বিত শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী আইন প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং কমিউনিটিভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সহিংসতার শিকার শিশুদের জন্য জরুরি সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জাতীয় অঙ্গীকারসমূহ ঘোষণা করেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে “শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে কলম্বোর বোগোতা কল টু অ্যাকশন” এবং “শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ কাঠামো”-এর প্রতি সমর্থন জানায়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করে যে, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে সক্রিয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমাজ, অর্থনীতি বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন, এনডিসি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মাহফুজা সুলতানাও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
সচিব ইয়াসমীন পারভীন বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থান তুলে ধরে শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার মতো উদীয়মান চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন এবং বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রতিকারমূলক উদ্যোগ তুলে ধরেন। এসব উদ্যোগ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সার্ক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রশংসা অর্জন করে।
শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং সকল শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় কাজ করে যাবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।