আলী আহসান রবি :
ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৬
তিনজন নবনিযুক্ত প্রধান—পার্টনার্স ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (পিপিডি) সচিবালয়ের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জোসেফ আকিনকুগবে আদেলেগান; বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস কোকো এইচ. উশিয়ামা; এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের চিফ অফ মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে, আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে তাঁদের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। তিনজন প্রতিনিধিকে স্বাগত জানিয়ে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা আরও গভীর করার ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহের ওপর জোর দেন এবং তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।
নবনিযুক্ত তিনজন প্রতিনিধিই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তারা নিজ নিজ সংস্থার সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সাথে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. আদেলেগানের সাথে বৈঠকে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে পিপিডি-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং টেকসই উন্নয়ন ও জনসংখ্যা-সম্পর্কিত উদ্যোগে পিপিডি তার অবদান আরও জোরদার করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন।
মিস উশিয়ামার সাথে বৈঠকে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, স্কুল ফিডিং এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে ডব্লিউএফপি-র দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি কক্সবাজার ও ভাসান চরে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএফপি) অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় টেকসই আন্তর্জাতিক সমর্থনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ড. টম-বন্ডের সাথে আলোচনায় এই বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয় যে, সম্ভাব্য অভিবাসীদের জন্য গণশিক্ষা ও বাজার-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা জোরদার করতে, অভিবাসন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তথ্য ব্যবস্থার উন্নতি করতে, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন পথ প্রসারিত করতে এবং সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ করতে বাংলাদেশ ও আইওএম কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘গ্লোবাল কম্প্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়ন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা এবং সংকট-আক্রান্ত দেশগুলোতে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তার ক্ষেত্রে আইওএম-এর অবদানের প্রশংসা করেন। ড. টম-বন্ডে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।