শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া চিত্রশাইল কাঁঠালতলা বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে মোছাঃ জেসমিন খাতুন (২৯) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত জেসমিন খাতুন ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের সরোয়ার সদ্দারের মেয়ে তার মায়ের নাম বেলী খাতুন। তিনি জামগড়া এলাকার বাড়িওয়ালা মোঃ আব্দুর রসিদ ও ম্যানেজার আব্দুস সোরহাবের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল (১৭ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ওই বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা জেসমিনের ঘরের জানালা খোলা দেখতে পান দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা ডাকাডাকি করেন।
এরপরও কোনো সাড়া না মেলায় সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তারা দেখতে পান, ঘরের ভেতর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় জেসমিনের দেহ ঝুলছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কুদ্দুস দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ নিহতের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
এদিকে, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে মনে হলেও এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে এটি নিয়ে নানা গুঞ্জন ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহতের হাতে বিভিন্ন আঘাতের দাগ দেখা গেছে, যা স্বাভাবিক আত্মহত্যার ক্ষেত্রে সাধারণত থাকে না। ফলে একে রহস্যজনক মৃত্যু বলে দাবি করছেন অনেকে। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান বলেন, আমরা লাশটি উদ্ধার করেছি এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন দুটি খতিয়ে দেখে ক্লু খোঁজার চেষ্টা চলছে।