আলী কদর পলাশ
ঈদের চাঁদ এখনো আকাশে ওঠেনি। কিন্তু দেশের মানুষের মনে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কেউ বাজারের হিসাব কষছে। কেউ গ্রামের বাড়ি যাওয়ার টিকিট খুঁজছে। কেউ আবার ভাবছে, এবার ঈদের ছুটিটা একটু শান্তিতে কাটানো যাবে কি না।
এই সময়েই একটা খবর মাঝে মাঝে শোনা যায়।ঈদের ছুটিতেও নাকি অফিস খোলা থাকে, কাজ চলতে থাকে, ফাইল ঘোরে, সভা বসে। তখন মানুষের মনে একটু ভয় ঢুকে যায়। যদি প্রধানমন্ত্রীই ছুটি না নেন, তাহলে মন্ত্রী-আমলা, সচিব-সহকারী কেউ কি সত্যি ছুটি পাবে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দোহাই লাগে ঈদের ছুটিতে অফিস করবেন না।
সারা বছর তো আপনি কাজ করেন। কখনও উন্নয়ন প্রকল্প, কখনও সভা, কখনও উদ্বোধন, কখনও বিদেশ সফর। রাষ্ট্রের কাজের শেষ নেই। কিন্তু মানুষ মাঝে মাঝে দেখতে চায়, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত মানুষটিও একটু থামেন। একটু বিশ্রাম নেন।
আপনি যদি ঈদের ছুটিতে অফিসে বসেন, তাহলে পুরো প্রশাসনও অস্বস্তিতে পড়ে যায়। উপরের মানুষ কাজ করলে নিচের মানুষ কীভাবে ছুটি নেয়? তখন সবাই অর্ধেক ছুটি আর অর্ধেক কাজের ভান নিয়ে দিন কাটায়।
তার চেয়ে ঈদের ছুটিটা সত্যিকারের ছুটি হোক।
দেশের মানুষ যেমন পরিবার নিয়ে সময় কাটায়, তেমন আপনি-ও একটু বিশ্রাম নিন।
ফাইল কয়েকদিন অপেক্ষা করুক।
মন্ত্রণালয়ও একটু নিঃশ্বাস নিক।
দেশ চলবে।
রাষ্ট্র থেমে যাবে না।
কিন্তু মানুষ বুঝবে এই কয়েকটা দিন সত্যিই ঈদের ছুটি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দোহাই লাগে ঈদের ছুটিতে অফিস করবেন না।
লেখা যখন শেষ করছি, তখন জানলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাত দিন সরকারি ছুটি দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।