পর্যবেক্ষকদের ‘চোখ দুষ্টু’ নয়, নির্বাচন কমিশনকেই হতে হবে স্বচ্ছতার আয়না
আলী কদর পলাশ
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য— ‘পর্যবেক্ষকদের চোখ দুষ্টু হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না’—নির্বাচনকে ঘিরে আস্থাহীন রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে যখন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলছে, তখন এ ধরনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কও তৈরি করছে।
গতকাল মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে সিইসি এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করে সামনে এগোতে চান এবং পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে রাজনীতিতে জড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়-দায়িত্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো নির্বাচন কমিশন নিজেই। পর্যবেক্ষকরা কেবল আয়না ধরেন; সেই আয়নায় যা ধরা পড়ে, তা ভালো না লাগলে আয়নাকে দোষ দেওয়া সমাধান হতে পারে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন পরিচালনার প্রতিটি ধাপে কমিশনের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা প্রমাণ করতে না পারলে কোনো পর্যবেক্ষণই জনগণের আস্থা ফেরাতে পারবে না।
পর্যবেক্ষকদের পক্ষপাতহীন থাকা যেমন জরুরি, তার চেয়েও জরুরি হলো তাদের কাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ‘ভুল রিপোর্ট দিলে ভবিষ্যতে অংশগ্রহণে সমস্যা হতে পারে’—এ ধরনের ইঙ্গিত পর্যবেক্ষকদের ওপর অঘোষিত চাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বরং কমিশনের উচিত—স্বচ্ছ আচরণবিধি, উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যম-পর্যবেক্ষক সংস্থার স্বাধীন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সত্যিকারের সুষ্ঠু নির্বাচন কথার আশ্বাসে নয়, কাজে প্রমাণিত হয়। তাই ‘দুষ্টু চোখ’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে নির্বাচন কমিশনেরই উচিত নিজেদের স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্যতা ও জবাবদিহির শক্ত প্রমাণ জাতির সামনে তুলে ধরা।