মোঃ ফারুক আহাম্মেদ, স্টাফ রিপোর্ট:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে কর্মরত উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাইসার আলম এর বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও চাকুরি বিধি অনুযায়ী ৩ বছর পর পর বদলীর নিয়ম থাকলেও একই কর্মস্থলে দীর্ঘ প্রায় ৯ (নয়) বছর ধরে চাকুরি করছেন কাইসার আলম। জনমনে প্রশ্ন একই কর্মস্থলে থাকার নেপথ্যে রহস্য কি?
সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ২ যুগ পূর্বে এম এল এস পদে যোগ দিয়ে ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দিদিল গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান কাইসার আলম। এরপর গত ২০১৭ সালে যোগদান করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে। গত ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী থেকে হয়েছেন ১৫ গ্রেডের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। কিন্তু বদল হয়নি একই কর্মস্থল। একই কার্যালয়ে দুই-চার বছর নয় দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ একাধারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে চাকরির সুবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মধ্যপাড়াস্থ অভিযাত এলাকায় নিজ নামে এবং স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছেন আলিশান ফ্ল্যাট, নামিদামি আসবাবপত্র, চোখ ধাঁধানো পাথরের কারুকাজ; কী নেই সেখানে! দীর্ঘ ২৮ বছরের চাকরি জীবনে এই ‘সোনার হরিণ’ পেয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বিপুল এ সম্পদ তিনি অর্জন করেন জলমহাল ইজারা, হাটবাজার ইজারা এবং ১% তহবিলে অর্থ ছাড়করণসহ নানান দাপ্তরিক নথি অনুমোদন করার ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে।
অভিযোগ রয়েছে, কাইসার আলম প্রতি মাসে ৩৩ হাজার টাকার বেতন পেয়েও তাঁর পরিবারে প্রতি মাসে খরচ প্রায় লক্ষাধিক টাকা । এক মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছে রাজধানীর ১ম শ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও এক ছেলের পেছেনে খরচ প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা। সম্প্রতি সরাইল উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুরের মাছ রাতে আধাঁরে বিক্রি করার মূল তিন কারিগরের মধ্যে একজন তিনি। সরাইলবাসী চায় তার অজ্ঞাত আয় বহির্ভুত আয় ও দুর্নীতির তদন্ত হউক দুদকের মাধ্যমে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছে, তিনি একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি হয়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ৯ বছর থাকার নেপথ্যে রহস্য কি? যা দুদক কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে অজানা বহু তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন অনেকে। তাই দুদকের তদন্ত প্রয়োজন এখন জরুরী হয়ে পড়েছে বলে অনেকেই মনেকরছেন।