ফারজানা ফারাবী, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে জননেতা মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফীর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৩টায় জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করা হয়।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক সাদের হোসেন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মোয়াম্মার আল হাসান, সহকারী সেক্রেটারি মুজাহিদ মাসুমসহ সংগঠনের অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতারা।
নেতৃবৃন্দ জানান, নীলফামারী-৩ আসন একটি জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ নানা উন্নয়ন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের প্রধান প্রত্যাশা হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের মতে, এই আসনের ভোটাররা অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার নেতৃত্ব মূল্যায়ন করেছেন এবং এবারও সচেতন সিদ্ধান্ত নেবেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ও কর্মীদের তৎপরতা বাড়ছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন নীলফামারী-৩ আসনে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। এখানে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং এলাকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে নীলফামারী-৩ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পেয়েছে। আগামী দিনগুলোতে মনোনয়ন দাখিল, যাচাই-বাছাই এবং প্রচারণা পর্বকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।