আলী কদর পলাশ
আমার কর্মজীবনে প্রযুক্তির অনেক রকম পালাবদল দেখার সুযোগ হয়েছে। সিসার অক্ষরের সময় দেখেছি, কাঠের অক্ষরের সময়ও দেখেছি। তারপর ধীরে ধীরে কম্পিউটারের যুগ এলো। আজকের প্রজন্মের কাছে এগুলো গল্পের মতো শোনাতে পারে কিন্তু সম্পাদক হিসেবে আমাদের কাছে এগুলো ছিল জীবনের বাস্তব পরিবর্তন।
আমি যখন অ্যাপল কম্পিউটার কিনি, তার মেমোরি ছিল মাত্র ১৩ কিলো। দাম ছিল ৯৬ হাজার টাকা। এখন এই কথা বললে অনেকে অবাক হবেন। বিক্রেতা ছিলেন সেগুনবাগিচার মোস্তাফা জব্বার, ক্রেতা ছিলাম আমি। তখনকার দিনে একটি কম্পিউটার কেনা শুধু যন্ত্র কেনা ছিল না, যেন ভবিষ্যতের দিকে এক পা ফেলা ছিল।
সেই সময় Gmail ছিল না। আমি ব্যবহার করতাম abation@bdonline.com। এই মেইলটি ছিল প্রশিকার। আমার দৈনিক অধিবেশন পত্রিকার জন্য। তৎকালীন সরকার যে পত্রিকাটি লাইসেন্স বাতিল করেছিল। আজ এই ইমেইল ঠিকানাটি লিখতে গিয়েও একধরনের পুরোনো দিনের গন্ধ পাই। কত মানুষ, কত কাজ, কত স্মৃতি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
১৯৯৬ সালে মডেমের দাম ছিল ২৮ হাজার টাকা। এখন সেটাই ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। প্রযুক্তি বদলেছে, যন্ত্র বদলেছে, দামের হিসাব বদলেছে, কাজের গতি বদলেছে। কিন্তু একটি জিনিস বদলায়নি। মানুষের যোগ্যতার মূল্য।
এখন দেখি সিভি নিয়ে অনেক কথা হয়। কীভাবে লিখতে হবে, কোন শব্দ ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে- এসব নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। আমি এসবের গুরুত্ব অস্বীকার করি না। ভালো সিভি অবশ্যই দরকার। কিন্তু ভালো সিভি কখনোই অযোগ্য মানুষকে যোগ্য করে তোলে না।
চাকরিদাতারা খুব দ্রুত বুঝে ফেলেন কে কাজ জানে, আর কে শুধু কথা জানে। এই জায়গাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কাগজে লেখা পরিচয় আর বাস্তবের সক্ষমতা এক জিনিস নয়।
তাই আমি তরুণদের বলি, সিভি লিখবে, নিশ্চয়ই লিখবে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি সময় দেবে নিজেকে তৈরি করতে। পড়াশোনা করবে, কাজ শিখবে, অভ্যাস গড়বে, সততা ধরে রাখবে। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষকে টিকিয়ে রাখে তার জ্ঞান, তার দক্ষতা, তার চরিত্র।
সিভি দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু ঘরে ঢুকে নিজের জায়গা করে নিতে হলে নিজের শক্তিই দরকার।
এই পথের কোনো শর্টকাট নেই।
ছবিটি ২৫ বছর আগের