সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক শাখা ব্যবস্থাপক সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করেছে এমন ঘটনা ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভবঘুরের ছদ্মবেশে নৃশংস পাঁচ খুন সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ‘সাইকো সম্রাট’ তিতাসে বহিষ্কার করে আমাকে থামানো যাবে না…… এ কে এম শামীম ওসমান প্রান্তিক মানুষের জন্য দায়িত্বশীল এআই জরুরি — উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ আদালতের নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে AI পলিসি খুব জরুরি –উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ রানীশংকৈলে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অপরাধে জরিমানা ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি বাসায় পৌঁছুবে যাবে গণভোটের লিফলেট গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে   —উপদেষ্ট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

আদালতের রায়ে ফিরলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার : আস্থার নতুন সন্ধিক্ষণ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৩ বার পড়া হয়েছে

আলী কদর পলাশ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গতকালকের দিনটি ছিল নিঃসন্দেহে এক নতুন মাইলফলক। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী কার্যকর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের যে রায় দিলেন, তা একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন সমাধান–সন্ধান, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় আস্থাহীনতারও নির্মম স্বীকারোক্তি। চৌদ্দ বছর আগে আদালতের দ্বারেই যে ব্যবস্থার অবসান হয়েছিল, আবার সেই আদালতের রায়েই সেই ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন–এ দৃশ্য নিজেই বাংলাদেশি গণতন্ত্রের টালমাটাল পথচলার এক প্রতীকী দলিল হয়ে থাকবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল রাজনৈতিক অবিশ্বাস থেকে। প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির পরস্পরের প্রতি এতটাই আস্থাহীন হয়ে উঠেছিল যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব—এই ন্যূনতম যৌক্তিক বিশ্বাসটিও ভেঙে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের ধারণা পায় সংবিধানিক স্বীকৃতি। উদ্দেশ্য ছিল খুব স্পষ্ট—নির্বাচন আয়োজন করবে এমন একটি প্রশাসন, যার ওপর রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ন্যূনতম আস্থা থাকবে, অন্তত কেউ তাকে সরাসরি প্রতিপক্ষের হাতিয়ার বলে মনে করবে না। বাস্তবে এই ব্যবস্থার অধীনে হওয়া কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন ক্ষমতার রদবদল ঘটিয়েছে, বিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে; ফলে জনগণও মনে করেছিল, এই ব্যবস্থায় কমবেশি একটা “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” তৈরি হয়।

কিন্তু যে–কোনো ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করে যারা সেটি পরিচালনা করে তাদের মানসিকতার ওপর। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর অযাচিত প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের কিছু অদৃশ্য ক্ষমতাকেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রভাব এবং অগণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সুযোগে এই ব্যবস্থার মধ্যেই দেখা দেয় গুরুতর বিচ্যুতি। ২০০৭–০৮ সালের অভিজ্ঞতা এখনো জাতির স্মৃতিতে তাজা—যখন তত্ত্বাবধায়কের আড়ালে কার্যত একটি অরাজনৈতিক সরকার ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে দুই প্রধান দলের রাজনীতিকেই “মাইনাস” করার অঘোষিত অভিযানে নেমেছিল। ওই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ধারণা এক কলমে বাতিল করে দেয়। যুক্তি ছিল—এ ব্যবস্থা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্যও বিপজ্জনক।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পর দলীয় সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে, তার কোনোটিই রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতার পূর্ণ মানদণ্ড স্পর্শ করতে পারেনি। একতরফা নির্বাচন, অংশগ্রহণমূলক হলেও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া, বিরোধী দলের ওপর দমন–পীড়ন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ক্ষয়ে গেছে বারবার। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়টাও সেই আস্থাহীনতার ঘন মেঘেই ঢেকে ছিল। আজকের আদালতের রায় সেই মেঘের ভেতর এক ঝলক আলো দেখালেও, আকাশ যে সঙ্গে সঙ্গে নির্মল হয়ে যাবে—এমন আশা করা এখনই অবাস্তব।

এই রায় মূলত একটি বার্তা দিয়েছে—দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার যে সাংবিধানিক–রাজনৈতিক সক্ষমতা আমাদের ছিল, আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি। ফলত আবারও আমাদের ফিরে যেতে হলো সেই “আন্তর্বর্তী নিরপেক্ষতার” আশ্রয়ে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের ওপর জনগণের আস্থা থাকায় এই রায়কে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখবে—এ অনুমান করা যায়। অন্তত পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলো নতুনভাবে অংশগ্রহণের যুক্তি পাবে, রাজপথের অচলাবস্থা কিছুটা হলেও প্রশমিত হতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরে এসেছে বলেই গণতন্ত্রের সব অসুখ সারিয়ে তোলা যাবে না। সংবিধানে একটি ধারা ফিরিয়ে আনা যতটা সহজ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানো তার চেয়ে অনেক কঠিন। রাষ্ট্র ও রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে যে দলীয়করণের বিষবৃক্ষ গেঁথে বসেছে, প্রশাসনের ভেতরে যে পক্ষপাতদুষ্টতা জেঁকে ধরেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন জমে আছে—এসব না বদলালে কেবল নির্দলীয় সরকারের লেবেল লাগিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলেই জনগণ নিশ্চিন্ত হবে না। অতীতে আমরা দেখেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলেও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যখন সহিংসতায় গড়িয়েছে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই রায়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে—ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকুক বা না থাকুক, জনগণের আস্থা ছাড়া টেকসই শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের যে জেদ, সেটি শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় হোঁচট খেল। আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ যখন সর্বসম্মতভাবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে এই রায় দিয়েছেন, তখন স্পষ্টই বোঝা যায় সাংবিধানিক আদালতও রাজনৈতিক বাস্তবতার চাপ অনুভব করেছেন। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম বহুদিন ধরেই আস্থাহীনতার এই বাস্তবতা তুলে ধরছিল; আজ সেই কথারই এক প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন দেখা গেল আপিল বিভাগের রায়ে।

এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় বাস্তবায়নের জন্য যে সময় ও প্রস্তুতি দরকার, সেটি তারা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করবে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীদের অভিমত অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে; পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে কার্যকর হবে পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সামনে যে নির্বাচন, সেটি এক ধরনের “সেতুবন্ধন নির্বাচন”—যেখানে অতীতের অবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা, দুইয়েরই ভার বইতে হবে। এই নির্বাচনকে অন্তত গ্রহণযোগ্যতার একটি ন্যূনতম স্তরে নিয়ে যেতে না পারলে, আদালতের রায়ও পরিণত হবে কেবল কাগুজে সান্ত্বনায়।

আদালতের এই রায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি নতুন সুযোগও। ক্ষমতার প্রতিযোগিতাকে যদি তারা নীতির প্রতিযোগিতায়, উন্নয়ন–ধারণার প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করতে চান, তাহলে এখনই সেই আলোচনার সময়। সংবিধানে ফিরে আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল না বুনে, এটিকে যেন গণতন্ত্রের নিরাপদ রেললাইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়—এটাই আজকের প্রধান আকাঙ্ক্ষা। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কর্মক্ষম করতে হবে, রাজনৈতিক সহিংসতা কমাতে সব দলকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে—এসব কাজ না করলে কোনো সাংবিধানিক প্রভিশনই আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র এনে দিতে পারবে না।

বাংলাদেশের মানুষ বহু সংকটের ভেতর দিয়ে আজ এই পর্যায়ে এসেছে। সামরিক শাসন, একদলীয় শাসন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দলীয় সরকার—সবই তারা দেখে ফেলেছে। অভিজ্ঞতার ভাঁজে ভাঁজে এখন তারা অনেক পরিণতও। সেই পরিণত নাগরিক সমাজের দিকে তাকিয়েই আদালত গতকাল একটি নতুন পথ খুলে দিলেন। এখন দায়িত্ব রাজনীতির—সে পথকে কতটা আলোকিত, কতটা নিরাপদ করতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রত্যাবর্তন তাই শেষ গন্তব্য নয়; এটি কেবল আরেকটি শুরু। এই শুরুটা যেন আস্থার হয়, অন্তর্ভেদের নয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১২ অপরাহ্ণ
  • ১৫:৫৬ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৩৬ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102