নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাম্প্রতিক বদলি–সংক্রান্ত দপ্তরাদেশকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও প্রভাবশালী মহলের আধিপত্যের অভিযোগ আবারও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে সুবিধা নেওয়া এবং ব্যাকডেট দেখিয়ে জয়েন করানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত নথিতে দেখা গেছে—সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (৩৮৩১১) মোঃ খোরশেদ আলমকে চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় থেকে বদলি করে বান্দরবান শাখায় যোগদানের নির্দেশ জারি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে—উক্ত কর্মকর্তা প্রকৃতপক্ষে ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে শাখায় যোগ দিলেও কাগজপত্রে যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১৪ আগস্ট ২০২৫। অভিযোগকারীদের দাবি, “১৪ আগস্ট তিনি শাখায় যানইনি”, এবং ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজই এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ের বড় প্রমাণ হতে পারে।

অভিযোগের তীর গিয়েছে শাখা ব্যবস্থাপক রাজন কান্তির দিকেও। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন—ম্যানেজারের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কর্মকর্তা ব্যাকডেট দেখিয়ে যোগদান করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, এটি কেবল “একজন কর্মকর্তার সুবিধা” নয়; বরং “এটি একটি পরিকল্পিত ফ্রড” যার পেছনে দুইজনেরই প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
এখানে আরও অভিযোগ ওঠে যে—উভয় কর্মকর্তা স্থানীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয়। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুযোগে এই পরিচয় ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে বদলি, পদায়ন, সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মতো নানা অনিয়ম করে আসছেন।
তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু পরিষদকে হাতিয়ার করে শাখায় এক ধরনের ‘দাপটের পরিবেশ’ তৈরি হয়, যেখানে স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুপস্থিত এবং যোগ্য কর্মকর্তারা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে শাখার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও গ্রাহকসেবা ও ব্যাংকের সার্বিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সোনালী ব্যাংকের কোনো দায়িত্বশীল দপ্তরের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে অভিযুক্ত দুজনের বক্তব্য পাওয়া গেলেও তারা বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিষয়টি এড়িয়ে যান, পাশাপাশি ১৪ অক্টোবর যোগদানের বিষয়টির স্বপক্ষে সিসও ফুটেজ চাইলে দিতে সক্ষম হয়নি । ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং সচেতনভাবে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত।
তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রাজনৈতিক পরিচয় বা সংগঠন ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়া বন্ধ না হলে কর্মপরিবেশ নষ্ট হবে এবং জবাবদিহি ব্যবস্থা আরো দুর্বল হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন—অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সোনালী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।