ফারজানা ফারাবী, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী–৩ (জলঢাকা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফির সমর্থনে এক বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল র্যালি ও শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে জলঢাকার ডাকবাংলো মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় কয়েক হাজার মোটরসাইকেল অংশ নেয়, যা পুরো উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকবাংলো মাঠ থেকে যাত্রা শুরু করে শোভাযাত্রাটি পৌরসভা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নির্বাচনি এলাকার নানা স্থানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন। শেষে এটি স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। পুরো রুটজুড়ে দলের সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ উপস্থিতি, জাতীয় পতাকা হাতে প্রদর্শন এবং প্রতীকের প্রতি সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। তিনি বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য জলঢাকাকে একটি নৈতিক, শান্তিপূর্ণ এবং উন্নত শহরে রূপান্তর করা। জনগণের ভোটের মাধ্যমে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ইসলামী মূল্যবোধের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যদি আল্লাহর আইন ও সৎ মানুষের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে ৫ বছরের মধ্যেই দেশের সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য অনেকটাই নির্মূল হবে।”
যুবসমাজের ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, “তরুণরাই পরিবর্তনের মূল শক্তি। তাদের অংশগ্রহণই আজকের শোভাযাত্রায় নতুন উৎসাহ তৈরি করেছে। আমি বিশ্বাস করি জলঢাকার জনগণ এবার সত্যিকারের জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।”
উপজেলা জামায়াতের আমির মোখলেছার রহমান মাস্টার বলেন, “দাড়িপাল্লার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, আজকের শোভাযাত্রা তার স্পষ্ট উদাহরণ। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে।”
শোডাউন চলাকালে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মোটরসাইকেল মিছিলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পুরো রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল বেশ সরব।
জলঢাকা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফয়সাল মুরাদ বলেন, “জনগণ আমাদের পাশে আছে। নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত—ইনশাআল্লাহ।”
শোভাযাত্রাটি শুধু প্রচারণাই নয়, বরং নির্বাচনি মাঠে জামায়াতের সক্রিয়তা ও সংগঠিত উপস্থিতির একটি বড় প্রদর্শনী হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী–৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও নতুনভাবে জোরালো হয়ে উঠেছে।