রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
কুমিল্লা তিতাসে এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে গণসংবর্ধনা খুলনায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু: নীরব যন্ত্রণার আড়ালে এক মানবিক বার্তা কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি মজবুত হবে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী জলবদ্ধতা দূরীকরণ, চাষাবাদ বৃদ্ধি ও প্রকৃতি বাঁচাতে খাল খনন অব্যাহত রাখা হবে ‎——- পানি সম্পদ মন্ত্রী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মুগদা থানা পুলিশ হজযাত্রী সেবা কাজকর্ম মনিটরিংয়ে গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ আগামী বছরে সঠিক সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গঠনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর আসাদুল হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত মূল হোতাসহ চারজন গ্রেফতার প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংকে অদক্ষ উচ্চ কর্মকর্তার দ্রুত পদোন্নতি- পৃষ্ঠপোষকতায় এসআলম গ্রুপ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা পৃষ্ঠপোষকতা, স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতা আজও বড় একটি সংকট। সম্প্রতি এক শীর্ষস্থানীয় ইসলামী ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ সিনিয়র কর্মকর্তা—যিনি বর্তমানে একজন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে আছেন—তার পদোন্নতি, একাডেমিক দক্ষতা এবং আচরণ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত অনেকেই মনে করেন, তার উত্থান মূলত যোগ্যতার কারণে নয়, বরং শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষকের সান্নিধ্য ও ব্যক্তিগত আনুগত্যের ফল।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ব্যাংকিং সেক্টরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও তার একাডেমিক রেজাল্টে কোনো প্রথম শ্রেণি নেই, এমনকি কোনো পর্যায়েই বিশেষ উল্লেখযোগ্য ফলাফলও নেই। অথচ ব্যাংকের অনেক মেধাবী কর্মকর্তা বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও যেখানে দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ পান না, সেখানে তিনি তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি পদোন্নতি লাভ করেন। যা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—এই অগ্রগতি কি প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে, নাকি বিশেষ কারো রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণে?

কর্মকর্তার সাথে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তিনি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য পরিচিত ছিলেন। এমনকি ঈদ বা কোরবানির মতো বড় উৎসবেও নিজ জেলা বা গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে, বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত না করে, সেই প্রভাবশালী ব্যক্তির বাসায় গিয়ে সময় কাটাতেন। এ কারণে সহকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে নানা ধরনের কটাক্ষ ও প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

ব্যাংকের ভেতরে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, ওই কর্মকর্তা নিজেকে “সুশীল” বা নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করতেন, কিন্তু বাস্তবে পৃষ্ঠপোষকের প্রতি এমনভাবে নির্ভরশীল ছিলেন যে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও ব্যক্তিগত স্বার্থ ও আনুগত্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যেত। আরও অভিযোগ—এক সময় ব্যাংকের অনেক কর্মী ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জিকির করতেই ব্যস্ত ছিলেন, পদোন্নতি, পোস্টিং বা ট্রান্সফার পাওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে।

যাদের একসময় এই কর্মকর্তা নিজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখাতেন, আজ তারাই আবার ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে সম্পর্ক অস্বীকার করছেন। অনেকেই বলছেন—
“তারা তখন এস আলমের নাম ছাড়া কথাই বলতো না, আর এখন সুশীল সাজছে! মনে হচ্ছে তারা সবসময়ই নিরপেক্ষ ছিল!”

এ ধরনের দ্বৈত চরিত্র, অযোগ্যতার পরোক্ষ প্রশ্রয় এবং যোগ্যতার বাইরে দ্রুত পদোন্নতির ধারাবাহিকতা শুধু ব্যাংকের কর্মপরিবেশেই নয়, পুরো আর্থিক খাতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যখন মেধা নয়, বরং পৃষ্ঠপোষকতাই অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও সততা—দুটোই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত স্থিতিশীল রাখতে হলে এই ধরনের অসঙ্গতি ও অযৌক্তিক প্রমোশন ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবি। নইলে যোগ্যরা বঞ্চিতই থাকবে, আর ক্ষমতার ছায়ায় থাকা কিছু লোকই বারবার উন্নতির সুযোগ পেতে থাকবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102