বিশেষ প্রতিনিধি, নীলফামারী :
০৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার
দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ জমে উঠেছে পুরোপুরি। গতকাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ২৩৭ আসনে প্রার্থীতা ঘোষনার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়লো। যদিও আরও আগে থেকেই বিএনপি’র বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীগন নিজ নিজ আসনে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছিলেন এবং নিজেদের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পাচ্ছিলেন। গতকাল অধিকাংশ আসনের প্রার্থীর তালিকা ঘোষনা করা হলে যাদের মনোনয়ন চুড়ান্ত হয় তারা আরও জোরেশোরে মাঠে নেমে পড়েছেন এবং যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা চলছে। পরবর্তীতে তাদের যথাযথ মুল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন এবং রাস্তা অবরোধ সহ নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বেশ কিছু কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় দেখা যায় ৬৩ টি আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয় নাই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে বিএনপি’র জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়েছে। জোটের সাথীদের জন্যেই উল্লেখিত আসনগুলোতে প্রার্থীতা ঘোষনা করা হয় নাই বলে বিএনপি’র বিভাগীয় পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
সুত্র জানায়, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাফর) এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বগুড়া- আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৭ আসনে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, লক্ষীপুর-১ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম সহ জোটের সঙ্গী বিভিন্ন নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্যেই উল্লেখিত ৬৩ টি আসনে প্রার্থী ঘোষনা থেকে বিরত রয়েছে বিএনপি হাই কমান্ড।
নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জি. শাহরীন ইসলাম তুহিন নির্বাচন করার কথা থাকলেও বিএনপি’র সাথে জোটবদ্ধ ইসলামী দল “জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামে”র মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সুত্রে জানা গেছে। মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর গ্রামের বাড়ী নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। তিনিও সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা জনাব রাশিদুল হাসান সোনারায় ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন বলে জানা গেছে।
জোটের আরেক শরীক বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গনিও এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে, আলোচনার মাধ্যমে জনাব আফেন্দীকে কোনোভাবে নিবৃত্ত করা সম্ভব নাহলে জেবেল গণিকে নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসন দেয়া হবে বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র একজন কেন্দ্রীয় সংগঠকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, আমরা মুখে যা-ই বলি না কেনো, বিএনপি’র সাথে এনসিপির জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়টি চুড়ান্ত হয়েই আছে। বিএনপি এনসিপিকে ২০ টি আসন ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে রেখেছে। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। সুত্রটি জানিয়েছে, নীলফামারী জেলার চারটি আসনের মধ্যে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনটি এনসিপি দাবি করেছিলো। কিন্ত নীলফামারী-৪ আসনটি না দিয়ে নীলফামারী-৩ আসনের বিষয়ে এনসিপিকে সবুজ সঙ্কেত দেয়া হয়েছে। এই আসনে এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক নির্বাচন করবেন বলে এনসিপি সুত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে বিএনপির ভোটের অবস্থান কোনোসময়েই আশাব্যাঞ্জক ছিলো না।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মরহুম মমিনুর রহমান চৌধুরী মোট ৫৫৩৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তৎকালীন বিএনপি প্রার্থী মরহুম আনেয়ারুল ইসলাম কবির চৌধুরী মাত্র ৮৭০২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। এই আসনে ভোটপ্রাপ্তীর সমীকরনে বিএনপি নেতৃত্ব বরাবরই অসন্তুষ্ট ছিলেন। আসনটি অন্যকোনো শরীকের মাধ্যমে উদ্ধার করে নিয়ন্ত্রনে নেওয়ার একটা পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে বলে জানা গেছে।