রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আশুলিয়ায় মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী বিশাল র‍্যালি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল জিহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবরোধ বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচারে সরকারের খরচ প্রায় শূন্য; গত বিশ্বকাপে মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১৪০ কোটি টাকা : তথ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে —স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা আইএলও মহাপরিচালকের সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠক: শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যৌথ অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দীকের মৃত্যুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শোক ১ম গোল্ডেন বুট, ২য় বিশ্বকাপ, ৩য় গোল্ডেন বল, নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি দেশের ১০ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক

‘সত্য লিখে বাঁচা সম্ভব না’ – বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু সেই নির্মম বাস্তবতার দলিল

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সাংবাদিকতা মূলত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক দুরূহ পেশা। কলম হাতে নেওয়া মানেই ক্ষমতার সামনে মাথা নত না করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তোলা। অথচ এই সত্য বলার দায়িত্বই আজ সাংবাদিকদের জন্য হয়ে উঠছে মৃত্যুর ফাঁদ। প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের লাশ আমাদের সামনে শীতল অথচ গভীর এক সত্য উন্মোচন করে দিয়েছে—এই দেশে সত্য লিখে বাঁচা সম্ভব নয়।

সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার জীবনের প্রতিটি পরতে সত্য বলার চেষ্টা করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপসহীন ছিলেন। দুর্নীতি, রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা সমাজের গোপন অন্ধকার—যে দিকেই চোখ পড়েছে, কলম থামিয়ে রাখেননি। কিন্তু এরই ফল হিসেবে বারবার হুমকি, ভয়ভীতি, চাপ এবং অবশেষে মৃত্যুর নির্মম বাস্তবতা তাঁকে গ্রাস করেছে। তাঁর লাশ যেন সাংবাদিক সমাজের জন্য এক প্রতীক—যে প্রতীক প্রমাণ করে, এখানে সত্যের মূল্য এখনো রক্তে পরিশোধ করতে হয়।

এমন মৃত্যু কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ সংকেত। কারণ, সাংবাদিকের কলম যদি থেমে যায়, তবে সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—সত্য উচ্চারণকারী কণ্ঠগুলোকে নিশ্চুপ করে দেওয়ার এক অশুভ প্রবণতা দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

আজ প্রশ্ন উঠছে—একজন মানুষ সত্য লিখতে গিয়ে প্রাণ হারাবে, অথচ রাষ্ট্র চুপচাপ থাকবে কেন? গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু কাগজে-কলমে থাকবে, বাস্তবে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে জীবন কাটাবে—এ কেমন গণতন্ত্র?

বিভুরঞ্জন সরকারের মৃত্যু আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর লাশ শুধু শোক নয়, আমাদের কাছে এক কঠিন বার্তা রেখে গেছে—“সত্য লিখে বাঁচা সম্ভব না”। তবে আমরা যদি নীরব থাকি, যদি কলমকে ভয়ে আটকে রাখি, তবে সেই বার্তাই স্থায়ী সত্য হয়ে যাবে। অথচ ইতিহাস সাক্ষী, কোনো দমননীতি কখনো সত্যকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সত্যের শক্তিই একদিন অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়ায়।

আজ প্রয়োজন, সাংবাদিক সমাজের ঐক্য, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের সোচ্চার ভূমিকা। বিভুরঞ্জন সরকারের আত্মাহুতি যেন শেষ মৃত্যু না হয়, বরং হোক এক নতুন জাগরণের সূচনা। আমরা চাই না আর কোনো সাংবাদিকের লাশ প্রমাণ হয়ে দাঁড়াক যে এই দেশে সত্য লিখে বাঁচা যায় না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102