আলী আহসান রবি :
ঢাকা, ২২ জুন ২০২৬
“নিরাপদ মাইক্রোডাটা ব্যবহারে বিবিএস-এর নতুন পদক্ষেপঃ গবেষণা, নীতি প্রণয়ন ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর নবপ্রতিষ্ঠিত Microdata Analysis Lab বিষয়ে অংশীজনদের অবহিতকরণ ও মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পরিকল্পনা কমিশন চত্বরের NEC ভবনের ECNEC সম্মেলন কক্ষে “Stakeholder Sensitization Workshop on Microdata Analysis Lab of BBS” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। KOICA-supported Capacity Building of Statistics Service based on Platform (CBSSP) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব জোনায়েদ সাকি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ ফিরোজ সরকার, সচিব, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Mr. Jihoon Kim, Country Director, KOICA, Bangladesh। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক (অস্থায়ী দায়িত্ব) জনাব মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম।
কর্মশালায় জানানো হয় যে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ পরিচালনা করে থাকে। এসব শুমারি ও জরিপের রিপোর্ট প্রকাশ সহ মাইক্রোডাটা (শুমারির ক্ষেত্রে ৫% এবং জরিপের ক্ষেত্রে ১০০%) ব্যবহারকারিম্পের জন্য রিলিজ করে থাকে।
নবপ্রতিষ্ঠিত Microdata Analysis Lab এর মাধ্যমে সকল মাইক্রোডাটা (শুমারির ক্ষেত্রে ১০০% এবং জরিপের ক্ষেত্রে ১০০%) ব্যবহারকারিশের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এসব শুমারি ও জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত মাইক্রোডাটা গবেষণা, উচ্চশিক্ষা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ, নীতি প্রণয়ন এবং কর্মসূচি মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাইক্রোডাটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে উত্তরদাতার গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। এই প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় BBS নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও অন-সাইট ব্যবহারের জন্য এই Lab প্রতিষ্ঠা করেছে।
কর্মশালায় উপস্থাপনার মাধ্যমে Lab-এর উদ্দেশ্য, ব্যবহারকারী শ্রেণি, আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া, ডাটা ব্যবহারের নীতিমালা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আউটপুট রিভিউ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, অনুমোদিত শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য ডাটা ব্যবহারকারী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ল্যাবে অ্যানোনিমাইজড মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন। তবে কোনো Raw Microdata ল্যাবের বাইরে নেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র Review Committee কর্তৃক যাচাইকৃত ও অনুমোদিত টেবিল, গ্রাফ, কোড এবং বিশ্লেষণাত্মক আউটপুট ব্যবহারকারীদের প্রদান করা হবে।
প্রধান অতিথি জনাব জোনায়েদ সাকি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনসেবার মানোন্নয়নে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান ও গভীর বিশ্লেষণের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এই Lab গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং একই সঙ্গে তথ্যের গোপনীয়তা ও জনআস্থা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, এই ল্যাব BBS-কে শুধু তথ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আধুনিক ডাটা সার্ভিস প্রদানকারী জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও সুসংহত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব জনাব মোঃ ফিরোজ সরকার বলেন, BBS-এর তথ্যসেবাকে আধুনিক, নিরাপদ ও ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক করার ক্ষেত্রে এই Lab একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি ল্যাব পরিচালনায় সুস্পষ্ট SOP, স্বচ্ছ আবেদন প্রক্রিয়া, দ্রুত আউটপুট রিভিউ এবং ব্যবহারকারী সহায়তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
BBS-এর মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ ওবায়দুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, Microdata Analysis Lab-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য সরকারি মাইক্রোডাটা ব্যবহারের একটি নিরাপদ ও সুশাসিত ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
Mr. Jihoon Kim, Country Director, KOICA, বাংলাদেশ তাঁর বক্তব্যে BBS-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডাটা ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং CBSSP Project-এর আওতায় চলমান সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আধুনিক ডাটা প্ল্যাটফর্ম, ডাটা ওয়্যারহাউস, SDMX-ভিত্তিক ডাটা ডিসেমিনেশন এবং এই Lab বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ব্যবহারবান্ধব করতে সহায়তা করবে।
কর্মশালায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, BBS এবং SID-এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা এই Lab-এর ব্যবহার প্রক্রিয়া, ডাটা নিরাপত্তা, গবেষণা সহায়তা, মেটাডাটা, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ অনলাইন মাইক্রোডাটা সেবার বিষয়ে মতামত প্রদান করেন।
কর্মশালায় আরও জানানো হয় যে, ভবিষ্যতে (২০২৭ সালের মধ্যে) BBS-এর Data Migration and Dissemination System, SDMX-ভিত্তিক ডাটা সেবা, মাইক্রোডাটা ক্যাটালগ, মেটাডাটা এবং অনলাইন মাইক্রোডাটা অ্যাক্সেস প্রদানের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্য ডাটা অনুসন্ধান ও গবেষণা সেবা আরও সহজ করা হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আশা করে, Microdata Analysis Lab-এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়ন অংশীজনরা নির্ভরযোগ্য সরকারি মাইক্রোডাটা (শুমারি ও জরীপের ১০০%) ব্যবহার করে মানসম্মত গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হবেন। এর ফলে সরকারি পরিসংখ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, নীতি প্রণয়ন আরও তথ্যনির্ভর হবে এবং BBS-এর প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।