নিজেস্ব প্রতিবেদক :
উত্তরবঙ্গের কিংবদন্তী রাজনীতিবীদ ঠাকুরগাঁও ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম এমপি মারা গেছেন
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হাপসাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম।
রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (CPB)-র মাধ্যমে। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে টানা ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বিরল রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তিনি ঠাকুরগাঁও-২ আসন (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের একাংশ) থেকে মোট ৭ বার এমপি হন:
কমিউনিস্ট পার্টি থেকে: ১৯৮৬ (৩য় জাতীয় সংসদ) এবং ১৯৯১ (৫ম জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন।
এরপরে আওয়ামী লীগ থেকে: ১৯৯৬ (৭ম), ২০০১ (৮ম), ২০০৮ (৯ম), ২০১৪ (১০ম) এবং ২০১৮ (১১শ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য থাকার সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন।
রাজনীতি ছাড়াও তিনি উত্তরবঙ্গে চা চাষ সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘রণবাগ ইসলামী টি এস্টেট’ নামের একটি চা বাগানের মালিক ছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি, তাঁর পরিবর্তে তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মা ম লা হয় এবং ওই বছরের ৩রা অক্টোবর পুলিশ তাঁকে গ্রে প্তা র করে। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকার পর অতি সম্প্রতি (মে, ২০২৬) তিনি জা মি নে মুক্তি পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় কারামুক্তির পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল।