বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সেলিম উদ্দিনের গভীর শোক প্রকাশ নকলমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আপসহীন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তনে ই-হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্ত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী EARN প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত: ৯ লাখ নিট যুবকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কাজ করবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় : তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক আইডিআরএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়: বীমা খাতের সংস্কার ও উন্নয়নে গঠনমূলক প্রস্তাবনা কুমিল্লা তিতাসে বিএনপির আনন্দ মিছিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

ব্যাংকিং খাতে সংকট নাকি সম্ভাবনা?

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

অর্থ নিউজ :

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও কিছু সম্ভাবনাও রয়েছে। এই খাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং লাভজনক শেয়ার নির্বাচনের বিষয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

বর্তমান পরিস্থিতি: সংকটের ছায়া

খেলাপি ঋণের বাড়বাড়ন্ত

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হলো খেলাপি ঋণ। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১.৩৪ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯.৩৬%। ২০২৫ সালেও এই সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না।

তারল্য সংকট

বর্তমানে অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণে উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূতকরণ।

মূলধন ঘাটতির উদ্বেগ

কিছু ব্যাংক, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো, পর্যাপ্ত মূলধন ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। ২০২২ সালে ১১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৩২,৬০৬ কোটি টাকা। ২০২৫ সালেও এই ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

অনিয়ম ও দুর্নীতি

গত ১৫ বছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ৯২,২৬১ কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে বলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (CPD) জানিয়েছে। এ ধরনের দুর্নীতি ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস করেছে।

সম্ভাবনার দিক

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং

ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) ডিজিটাল ব্যাংকিং (রকেট) খাতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া, গ্রিন ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

লাভজনক ব্যাংকের তালিকা

২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে নিচের ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত হতে পারে:

ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (DBBL)

বৃহত্তম এটিএম নেটওয়ার্ক,

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নেতৃত্ব প্রদানকারী,

মুনাফা ও লভ্যাংশ প্রদানে স্থিতিশীল।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড

বাংলাদেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি,

সম্পদ ও আমানতের পরিমাণ বেশি,

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তারল্য সংকটের কারণে সতর্কতা প্রয়োজন।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) ব্যাংকিংয়ে শক্তিশালী,

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা,

মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা।

সিটি ব্যাংক লিমিটেড

আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা,

প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের কারণে শেয়ারে লাভের সম্ভাবনা।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা

দুর্বল ব্যাংকগুলোর শেয়ার কেনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিনিয়োগের আগে ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যালেন্স শিট ও লভ্যাংশ ইতিহাস বিশ্লেষণ করা জরুরি।

বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক অবস্থা শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত মিশ্র অবস্থায় রয়েছে—কিছু ব্যাংক সংকটে থাকলেও কিছু ব্যাংক স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময়। ডাচ-বাংলা ব্যাংক বা ব্র্যাক ব্যাংকের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ও গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে। তবে, বিনিয়োগের আগে একজন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102