সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
জগতপুর ইউনিয়নসহ সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানালেন হাজী মকবুল হোসেন সংহতির নিদর্শন হিসেবে কুয়েতকে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যসামগ্রীর শুভেচ্ছা চালান হস্তান্তর করল বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর সংহতি প্রকাশ টেকনাফে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের গোপন আস্তানায় বিজিবি’র হানা এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডিএনসিসির প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এডিবির দ্রুত এবং সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া ও অর্থায়ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ——- অর্থ মন্ত্রী দেশের সম্পদ মাটির নীচে রেখে আমদানি ভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী

বিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ ও দ্রুততর গবেষণা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর শিক্ষা উপদেষ্টার

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬:

দেশের টেকসই উন্নয়ন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে বিজ্ঞান শিক্ষায় ভর্তি ও গবেষণার গতি উভয়ই উদ্বেগজনকভাবে কমছে। কোনো জাতির জন্য এটি মোটেই সুখকর নয়।” জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন শক্তিশালীকরণ: সাশ্রয়ী ও উচ্চ প্রযুক্তিগত সমাধানের ব্যবহার শীর্ষক একটি কর্মশালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে আজ বিকাল ০৩.০০ টায় অর্থ বিভাগের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার এবং কর্মশালার উদ্বোধন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। আজকের কর্মশালায় কি- নোট প্রেজেন্টেশন করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের ইমেরিটাস সাইন্টিস্ট অধ্যাপক ড. ফিরদৌসী কাদেরী, বিজ্ঞান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোবারক আহমদ খান।

কর্মশালায় শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো-বিশেষ করে যেগুলো গবেষণায় সক্রিয়-তারা গবেষণা অনুদান প্রাপ্তির পর সরকারি ক্লিয়ারেন্স ও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ছয় থেকে আট মাস সময় লেগে যাওয়ায় গবেষণার অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না এবং সম্ভাবনাময় গবেষণা মাঝপথেই থমকে যায়।

তিনি বলেন, “পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় বৈষম্য থাকা উচিত নয়। অবশ্যই জবাবদিহিতা থাকবে, তবে যেসব প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলভাবে গবেষণা পরিচালনা করে, তাদের জন্য একটি ফাস্ট-ট্র্যাক সিস্টেম চালু করা জরুরি।” শিক্ষা উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জিডিপির মাত্র প্রায় ০.৩ শতাংশ গবেষণায় বিনিয়োগ করছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত কম। “এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় নয় অনেক স্বল্পোন্নত দেশের চেয়েও কম। এই বাস্তবতা আমাদের গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে” তিনি বলেন ।

তিনি এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ভ্যাকসিন ও স্বাস্থ্যখাতে বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে যেখানে রাষ্ট্রকে এই খাতে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বহন করতে হবে, সেখানে বিজ্ঞান, গবেষণা এবং বিশেষায়িত সেন্টার অব এক্সেলেন্সে বিনিয়োগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

প্রবাসী ও আন্তর্জাতিকভাবে কর্মরত বাংলাদেশি গবেষকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, জ্ঞান বিনিময়এবং দেশে ফিরে বা দূরবর্তীভাবে গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের একটি শক্তিশালী রিসার্চ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে-যেখানে বেসিক ও অ্যাপ্লাইড সাইন্সের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকবে। এর জন্য সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট সেক্টরের মধ্যে সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ জরুরি।”

দেশের অবকাঠামোতে অতিরিক্ত জোর দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও গবেষক তৈরিতে তুলনামূলক কম বিনিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অবকাঠামো খাতে সময়মতো অর্থ ব্যয় এর সক্ষমতা না থাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত যাচ্ছে- যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

সি আর আবরার আরও বলেন, “গবেষণার ফলাফল শুধু প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, সেগুলো বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ দিতে হবে। নলেজ-বেইজড ইকোনমি গড়ে তোলার এখনই সময়।”

শিক্ষা উপদেষ্টা গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, যুক্তিসংগত প্রত্যাশা এবং রিভিউয়ারদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ শুধু নীতিনির্ধারক নয়, গবেষণার একজন সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে-এটাই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।”

আজকে কর্মশালায় গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা উপদেষ্টা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সঠিক সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই ঘরে থাকা প্রতিভার শক্তিতেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102